বৈশাখের কাছে আমার যত ঋণ

বৈশাখের শাখে শাখে আনন্দের যে কালবোশেখী
অন্তরালে তার থেকে যায় শেকড় সন্ধানের অনুরণন
একদা হালখাতার খেরো পাতায় অংক মেলানোর
যে আয়োজন । বড় জোর ব্যবসার জায়গায় মিষ্টিমুখ করা
বানিজ্যিক পাল্লার পালা-পর্বণে যে বৈশাখ ছিল বৃত্তাবদ্ধ
সেই বৈশাখ কালের যাত্রায় হলো বাঙালির মুক্তিযুদ্ধ ।

বলধা-বাগানে ফুলের পাপড়ি মেলে ফুটেছিল সেই বৈশাখ
আনন্দ ছিল সীমিত এতটাই যে শোভাযাত্রায় ছিল নিষিদ্ধ সে
ব্যাপ্তিতে নয় , গভীরতায় ছুঁয়েছিল বৈশাখ চেতনার একান্ত চত্বর
পরিসর ছিল নিতান্তই ক্ষুদ্র , এক চিলতে উঠোন বড় জোর
শীতল পাটি পেতেই বসেছিলেন শিল্পী-সকল প্রতিবাদী যাঁরা
উচ্চারিত শ্লোগানে নয় , প্রতিবাদী ছিলেন গানে গানে তাঁরা।

নিষিদ্ধ সময়গুলোতে বিশুদ্ধ সংস্কৃতি ছিল অস্ত্রের মতো তীক্ষ্ণ
রবীন্দ্রনাথ রুদ্ধবাক তখন , নজরুল খন্ডিত অজ্ঞ অস্ত্রোপচারে
অকষ্মাৎ রমনা-হ্রদের নবীন জলবিন্দু তখন ফুঁসে ওঠে বোশেখী রোষে
বুড়ো বট-বৃক্ষ খুঁজে পায় তার হারানো যৌবন, আর শেকড় সন্ধানীরা
অবশেষে পাই সেই সত্যের মূল যাকে মৌলবাদিরা করেছিল গৌণ
সুর ও সংগীত ছাড়া অবশিষ্ট প্রতিবাদ ছিল তখনও পর্যন্ত অতীব মৌন।

তারপরের ইতিহাস জানেন সকল সুধিজন, জাতিসত্তায় সে শেকড় তখন শক্ত
শহরে -গ্রামে, সংগ্রামে সংগ্রামে বাঙালি হলাম আবার আমি ঝরিয়ে সাগরসম রক্ত।

১৪ই এপ্রিল ২০১৮. ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *