না , না মৌচাকে কেউ মারেনি ঢিল
তবু মানুষ মৌমাছিরা গিজ গিজ করে মৌচাকের মোড়ে
চিড়ে চ্যাপ্টা হয়ে ভিড়ে হেঁটে যাই আমি
শান্তিনগরের দিকে শান্তির সন্ধানে
জানি বলবেন , শান্তিনগরেই বা শান্তি কোথায়
বাসের ভেঁপু , গাড়ির হর্ণ , মানুষের কোলাহল
কলহ সবখানে প্রবল এতটাই
যে শান্তির সন্ধান কেবলই কোন অরণ্যের রোদন।
তবে আমি যে শান্তির কথা বলছি
সে ও থাকে শান্তিনগরের মোড় পেরুলেই
ওই যে দেখতে পাচ্ছেন , ঐ পাশের গলিতেই
ফ্ল্যাট বাড়ির ঐ ঝুল বারান্দায় চুল শোকায় প্রায়শই ।
তবে কী জানেন ? বৃত্তাবদ্ধ নয় সে ইটের দেওয়ালে
তাকেও দেখি অরণ্যের সবুজে মিশে যায় একাকি
গোলাপি জামার অন্তরালে থাকে সবুজাভ হৃদয়টকু
লুকোতে সেই হৃদয় , মুখ ঢাকে অকস্মাৎ নম্র লাজে।
সেদিন দেখলাম ছাদে চুল শোকাচ্ছে আবারও
মুঠোতে রয়েছে মুঠোফোনিক কোন ভালবাসা হয়ত
নইলে অমন দুষ্প্রাপ্য সলজ্জ হাসি সহসা দেখিনি বহুদিন
টবের গাছ গুলো মূর্চ্ছা গেল , মূর্চ্ছনা মাখানো মিষ্টি মুখে
ফুলেরা এখন বিব্রত সব, ছাদে চঞ্চলা এক কুসুম-কলি
ইচ্ছে হলো অমিতের মতো তার নামটাও দিই পাল্টে
শান্তি থাকুক না হয় কেবল পোশাকি নাম তার
নাচের রুমুকি ঝুমুকিতে হোক না সে কবিতা আমার।
ওই যে ঠিক আমার মতোই বুড়ো বট গাছটা স্থবির ছিল
কোন সে আদিকাল থেকে, সেও তো নড়ে চড়ে বসলো আজ
শাখায় লাগলো বাতাস, নাচালো তার আলতো আঁচলখানি
অভাবিত ভাবনায় নিমগ্ন ঐ চোখে লেখা হলো কবিতা
হঠাৎ চোখ মেলে চাইলো পুরোনো বটের জীর্ণ পাতার দিকে
সে চোখের পলকে, প্রেমের ঝলকে কুয়াশা কাটানো রোদ্দুর গেল কদ্দুর
লজ্জায় আবার আনত হলো চোখ, আঁচল গেল খানিকটা খসে যেই
ঠিক তখনই সবিতার আবছা আলোয় হয়ে উঠলো সে কবিতা।
শব্দরা সব মিছিল করে আসে , তবু হয় না কখনই কবিতা লেখা
কবিতাতো তার দেহের ভাঁজে ভাঁজে, কবিতা সেই অনুচ্চারিত রেখা।
১০ই এপ্রিল ২০১৮. ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed