অকষ্মাৎ আজ রবি-ঠাকুরের অজস্র ভালোবাসারা সব জড়ো হলো একত্রে
মারাঠি কিশোরি কিংবা স্কট তনয়া-যুগল
অথবা কাদম্বরী দেবী কিংবা ভিক্টোরিয়া ওকাম্পো
এবং,এঁদের মধ্যবর্তিনীরা সকলেই যে রবীন্দ্রনাথের অনুরাগের রাগিণী
সমবেত সে সুর বাজলো ভোর না হতেই আজ ভৈরবী রাগে
অরিন্দম শুধু পড়ে আছে একাকি আজ কার সে অনুরাগে।
চেরি ফুলের চিত্ত জুড়ে যে বসন্ত-বাহারের রাগিনী বাজে ধীর লয়ে
তার ঊষ্ণতা অনুভবের জন্য রেশমি ভালোবাসাকে ঢাকে পশমী শালে
রবি-বাবুর মতো অত দুঃসাহসী নয় প্রেমের লড়াইয়ে বেচারা অরিন্দম
যে গানেতে কবিতায় মুঠো মুঠো মুগ্ধতা ছড়াবে প্রেয়সীর প্রান্তিক প্রাঙ্গনে ।
অরিন্দমের শব্দরা সব, দূর্বল তারই মতো, সুরেরা ওঠেনা সাহসী হয়ে
গোমতি ঘাটে জল ছোঁয় আলতো পরশে, নদী চলে যায় আপনি বয়ে।
অথচ এই তো সেদিন, ফ্ল্যাট বাড়ির এক বৈঠক-খানার আমুদে আড্ডায়
অরণি-অরিন্দম মেরেছে রাজা -উজির উচ্চবাক শব্দের সমরাস্ত্রে
রবীন্দ্রনাথ সেখানে বিশ্লেষণী ছুরিতে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র খন্ডে খন্ডিত হন
তলোয়ারে কুপোকাৎ নজরুলও ব্যাখ্যার আখ্যায়,বিভাজনী বুদ্ধির
সেই স্মৃতিতে ধুলো জমেনি আজও. মনে আছে সেই তারুণ্যের তরুলতা
তর তর করে বয়ে যাওয়া সময় পেরুনো অরিন্দমের সেই অকাল বিহ্বলতা।
কার্নিশে বসা কাকের ডাকেও শোনা যেত তখন কোকিলের কন্ঠ-কল্প
শীত-সকালেও তখন উঁকি দিত বসন্ত , এখনতো সে সব নিতান্তই গল্প।
৯ই এপ্রিল ২০১৮. ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed