কাঠ-ঠোকরার কাহিনী

কাঠ-ঠোকরা মন নিয়ে বড়ই বিব্রত ইদানিং আমি
তোমরা সবাই যখন ভ্রমরের প্রাণ নিয়ে
এদিক ও দিক ঘুরে বেড়াও নিশ্চিত মধুর সন্ধানে
তখনও আমি বৃক্ষের বাকলে দিই অসংখ্য চুম্বন
ভাগ্যিস বিধাতা দিয়েছিলেন হৃষ্ট -পুষ্ট ওষ্ঠযুগল
নইলে কবেই হতাম কুপোকাৎ,ঝরতো রক্ত অবিরত ।

ঠোঁট দিয়ে নয়, হৃদয়ের রক্তপাত প্রাত্যহিক জলপ্রপাত
সফক্লিস, শেক্সপিয়ার এমনকী রবীন্দ্রনাথ অবধি
ট্র্যাজেডির সেই প্রপাতে নান্দনিক স্নান করেছেন প্রত্যহই
কত শত নায়ক-নায়িকা ভেসে যায় হৃদ্যিক রক্তের বন্যায়
কিংবা অন্তত চোখের নোনা জলে ভরে যায় চিত্রার জল।
তবু আমি নাছোড়বান্দা, বৃক্ষের রুক্ষ হৃদয়ে অবিরত প্রবেশ-প্রচেষ্টা ।

নেশাগ্রস্ত মানুষের প্রাত্যহিক পাগলামি চলে, পেশাগ্রস্ত মানুষের মতই
সকাল সন্ধ্যা ঠুঁকে যাই মাথা, ঠকে যাবো কী যাবো না ভাবি না আদৌ
বৃক্ষ-বাকলের ছিঁটেফোটা রসই অমৃত হয়ে ওঠে , ঠোঁটের মাঝে
বাহ্যিক বাধা গৌণ অতি , গুণে যাই শুধু অন্তর্গত অনন্ত প্রসাদ।
চৌকষ পাখিরা ভাবে নিরস কাঠ-ঠোকরা শুধু ঠুকেই গেল , ঠকেই গেল
প্রাপ্তির ঘরে বিশাল শূন্য , অর্জনেই হয়ে গেল বিসর্জনের ব্যাপ্তি।

বৃক্ষের হৃদয় পাওয়া বড়ই কঠিন , তবে বাহ্য বাকলে নয় তার পরিচয়
কাঠঠোকরা মন যখন পায় আস্বাদ. তখনই যুগপৎ প্রেমিক ও ঈশ্বরের জয়।

৬ই ফেব্রুয়ারি ২০১৮ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *