কে হও গো তুমি আমার ?
কিংবা আমিই বা কী হই তোমার ?
এমন বিব্রতকর প্রশ্ন জিজ্ঞেষ করিনে আমরা কেউই
কারণ একেবারে আগুন্তুক ছাড়া
সকলেই আমরা কোন না কোন সম্পর্কের
সংযোগে আছি বরাবর সংযুক্ত ।
সে সংজ্ঞা নির্ধারিত কখনও রক্তের অভিন্নতায়
কখনও বিয়ের পিঁড়িতে পা দেওয়ার সুত্রে মাত্র ।
এই সব নিবিড় সম্বন্ধের পাশ দিয়ে চলে যায়
সম্পর্কের আরও কিছু বহতা নদী ।
কখনও পাড়াতুতো মাস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক হয় দাদার
নইলে দাদাগিরি করার অবকাশ পাবে কোথায় সে ।
কখনও পাশের বাসার ভাবি কাছে চলে আসেন এতটাই
যে হাঁড়ির ক’টা চাল এখনও ভাত হয়নি সে খবর রাখেন নিমিষেই ।
রিলে -রেসের মতোই দ্রুতই রিলে হয়ে যায় সংবাদ সব
সুখের খবরেরা কবর চাপা পড়ে যায়, দুঃসংবাদের ব্রেকিং নিউজে।
দপ্তরের ব্যতিব্যস্ততায়ও মেলে সম্পর্কের কিছু অসংজ্ঞায়িত সুত্র
ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং অধস্তনঃ করণিক উভয়ই বাঁধা পড়ে যান
অসম সম্পর্কের অবাঞ্ছিত অবিকল এক শেকলে।
রমণী-মোহন বসের সঙ্গে মহিলা সচিবের একান্ত সম্পর্ক
সংজ্ঞায়িত হয় বাহ্যত রোমান্সের রোমাঞ্চে
অন্তর্গত মিলটি থেকে যায় কেবল বেতন বৃদ্ধির ব্যতিব্যস্ততায়।
আর বেচারা পিওন , উষ্ণতা আনে কেবল চায়ের কাপের ধোঁয়ায়
জীবনটা তার সারা বছরই কাটে হাড় কাঁপানো শীতে।
সম্পর্ক আরও আছে বহুবিধ , এক প্রান্তে চোরেতে পুলিশে সম্পর্ক
অন্য প্রান্তে শিক্ষক -শিক্ষার্থীর নিয়তই নিঃস্বার্থ সংযোগ ।
পাঠক ও শ্রোতার সম্পর্ক , গায়কের রাগের অনুরাগির সম্পর্ক
এমনই আরও কত কী সব অনুচ্চারিত সম্পর্ক থেকে যায়
জীবনের এই একটুকু উঠোনে , জীবনেরই শেষ অবধি ।
প্রেমের সম্পর্ক সর্বাধিক উচ্চারিত নাটকে -নভেলে , রূপোলি পর্দায়
প্রায়শই মিলনের আনন্দে উদ্বেলিত থাকে সম্পর্কের বন্ধন।
কখনই কেবলই বিরহ , কখনও প্লেটোনিক প্রেমে বিমূর্ত অবস্থান।
সম্পর্কের সব চেয়ে নিবিড় বন্ধন ও ভাঙে , জীবনের যবনিকাপাতে
মাত্র একটি সম্পর্ক থাকে অটুট, যেখানে ফারাক নেই কোন দিনে ও রাতে
জীবন ও জীবনাতীতের প্রবাহে যে সম্পর্ক হয়ে থাকে চির ভাস্বর
চিনিনা তাকে সহসা আমরা, জানি কি সেতো কেবল আমি এবং ঈশ্বর।
২১শে ডিসেম্বর ২০১৭ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed