[ফিরোজ মুস্তফা বাপ্পী ভাইয়ের মৃত্যুতে *]
সুখ ও দুঃখের মধ্যে দেয়ালটা কী এতই সুক্ষ
যে প্রাপ্তির পুষ্পরা সব ফুটে উঠতে না উঠতেই
কষ্টের কষ বেয়ে পড়বে আমার এই নিকোনো উঠোনে
ফুল ফোটা না ফোটার সংজ্ঞায় বসন্তকে দেখি কেমন করে।
অনাগত বসন্ত এখনতো মনে হয় প্রাণের পঞ্জিকায় নেই কোথাও
চিকচিকে বালিতে বলো মরীচিকা প্রত্যাশা নিয়েই নিত্যবসবাস।
এইতো সেদিন রঙিন পাতারা সব মিছিল করে আসতো, শ্লোগান নয়
গানে গানে অনুভব করেছি পাড়ায় পাড়ায় পাতাদের কোলাহল।
হেমন্তের হিমেল হাওয়াকে ছাপিয়ে দেখেছি আশ্চর্য উষ্ণ সব রঙেদের,
তারপর আচমকা তোমার বুকের ব্যথার মতো পাতারা যখন ঝরছে অবিরত
ঠান্ডা হাওয়ায় যখন হিম হয়ে আসছে দেহ তোমার এবং এ মনও আমার
তখনও শেলির কথায় প্রবল আস্থা আমার, শীত এলে বসন্ততো আসবেই ।
কিন্তু শেলিতো বলেননি বসন্তেও ঝরবে পাতা ঠিক হেমন্তেরই মতো
লেখেনি এমনতো কেউ পঞ্জিকায় কখনও যে বসন্তের পরই আসবে শীত
হায় হিসেবের এত বড় গড়মিল হয়ে গেল! বছরের বাকি ঋতুরা সব থিতু এখন
কেবল হিম হয়ে আসা অনুভবে, সকাল সন্ধ্যার বিভেদটুকু ঘুঁচেছে এতটাই
যে উষার তূষারে দেখি দ্রুত ধাবমান সন্ধ্যা আসছে আমারই খিড়কি দুয়ার দিয়ে
নিবিড় পরিচর্যাও সন্তোষ আনেনি স্থবির হয়ে পড়া ঐ প্রাণজ অস্তিত্বে তোমার ।
হৃদয়তো দিয়েছিলে সেই যে কবে , কতদিন হলো , কোন এক বসন্তবেলায়
দিতে যদি হৃদপিন্ডখানিও, সযত্নে রাখতাম আঁচলে বেঁধে, হারাতো না এ মরণ মেলায়।
*কবিতায় শারমিন রহমান শুভ্রার অনুচ্চারিত অনুভূতির অনুরণন
১৪ই ডিসেম্বর ২০১৭ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed