[ শাহনাজ ফারুকের একটি স্টেটাস পোস্টে অনুপ্রাণিত হয়ে]
কথা ছিল , আদায়-মধুতে মেশানো উষ্ণ চায়ের চুমুকে চুমুকে
লিখবো কবিতা; চায়ের কাপ উপচে যা ভরে দেবে হৃদয়ের পাত্র
খুচরো অক্ষরেরা সব হাঁটি হাঁটি পা পা করে দাঁড়াবে এসে
লাইনটানা খাতা ভ’রে যাবে সহস্র শব্দের সুসজ্জিত সমাহারে ।
একেকটা শব্দ তুলে নেবে কবিতার খরিদ্দারেরা তাদের পছন্দ মতো
আমি কেবল শাঁখারি বাজারের স্যাঁকড়া মতো গড়ে যাবো সোনার স্বরস্বতী।
নাহ, তেমন কিছুই হলো না লেখা আমার, কবিতাগুলো নিন্দুকের নিরেট বচন
গড্ডালিকা প্রবাহে ভাসিয়ে দিয়ে গা, আমি এখন এক তূখোড় নিন্দুক
কার ঘর ভেঙ্গেছে ক’বার , গড়েছে আবার কার সাথেই বা এ সব মুখরোচক কথায়
কেটে যায় কাল আমার । কুন্ডুলি পাকানো সিগারেটের ধোঁয়ার মতোই
এঁকে বেঁকে বলে যাই লোকের লালসার কথা, বোকার স্বর্গে ভাবি এই-ই বুঝি ললিতকলা
এদিকে এই সিগারেট অস্তিত্ব আমার , নিজের দহনে নিজেই জ্বলে-পুড়ে ছারখার।
ঈর্ষার আগুন জ্বালিয়ে আতশবাজি খেলি , দেওয়ালী-রাতের দেওয়াল ডিঙ্গিয়ে
বুঝিনা তো আগ্রাসী বনাগ্নি গ্রাস করেছে যা ছিল একদা খাঁটি সবুজের সমারোহ
রসালো গপ্পের ফাঁদে আটকাই বন্ধুদের প্রায়শই, বিলম্বেই বুঝি বিস্বাদটুকু এর
পরচর্চার পাখায় ভর করে উড়ে গিয়ে বসি এ ডাল থেকে ও ডাল
নিজেরই অজান্তে কেটে ফেলি সেই ডালখানি, যাতে আশ্রিত থাকে পাখি মন আমার।
তাও নিন্দের নেশায় বেঘোরে ঘুমাই, পোড়ে পোড়ুক না অপরের ভিটেখানি ।
পরচর্চার করে অবসান , আসুন না ভাইসকল নিজ চর্কায় দেই খানিক তেল,
আছেন যারা নিন্দুক
নইলে আমৃত্যু বাঙালি কি খেলে যাবে কেবলেই নিন্দে নিন্দে খেল,
খুলবে না কি নিজের সিন্দুক।
৬ই ডিসেম্বর ২০১৭ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed