এক শীত-বিকেলে সেই নোনা ধরা জীবনের অলিন্দে
পড়ছিলাম বেশ দীর্ঘ কবিতা তোমার
প্রথম স্তবকে , উচ্ছসিত ভালোবাসার শব্দরা সব
সৈনিকের শৃঙ্খলায় কুচকাওয়াজ করে গেল মনের আঙ্গিনায়
পুষ্প স্তবকও গেল রেখে চিত্তের সেই চিরচেনা চত্বরে
যেখানটায় ভাস্কর্য তোমার তৈরি করেছি সেই কবে থেকে।
শব্দের সিঁড়ি ভেঙ্গে উদ্বেলিত মন আমার হেঁটেছে খানিকটা পথ
তারপর দ্বিতীয় স্তবকে, থমকে দাঁড়ালাম
ভালোবাসার রংটা যেন ফিকে হয়ে এলো গোধূলির ধূলিতে
অনুভূতির আঙিনায় তখন আলোর অভাব এতটাই
যে আমার পুরু চশমার চৌকষ চোখেও পরিস্কার পাই না দেখতে
ভালোবাসার সেই শব্দদের, খানিক আগেই এনেছিল যারা এক দমকা হাওয়া।
আঁধার আকাশকে অগ্রাহ্য করেই, জ্বল জ্বল করলো যখন বিদ্যূতের বাল্ব
নিষ্ঠাবান পড়ুয়া পরীক্ষার্থীর মতোই আমি তখন
কবিতার শেষ স্তবকে শব্দদের সঙ্গে মিতালি পাতাতে এতটাই ব্যতিব্যস্ত
যে প্রেম প্রত্যাশি এ মন বোঝেনি ততক্ষণে শব্দরা সব সজ্জিত অহঙ্কারের অলঙ্কারে।
উষ্ণতা নয়, উপেক্ষার উদ্বেগে তখন উৎকন্ঠিত মন নিয়ে হলাহল পানে নীলকন্ঠ আমি
অক্ষরেরা সব প্রেমহীন, পরাস্ত সৈনিকের মতো লুকোয় মুখ অমাবশ্যার আড়ালে।
এখনতো রাতের এই গভীর গম্ভীরতায় , বিষন্নতাকেই খুঁজে বেড়াই প্রসন্নতার ভান করে
আশার গুড়ে জমেছে বালির পাহাড় , কী হবে আর কবিতার উপর অযথা এ মান করে।
৪ঠা ডিসেম্বর ২০১৭ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed