কবিতা, তোমাকে পাই না খুঁজে

প্রায়ই যে কবিতা চাও, দিনে অন্তত একটি করে
এই দূর্মূল্যের বাজারে বলো কবিতা পাই কোথায়
শাক-সব্জি, টাটকা কৈ সবইতো দেখলাম কিন্তু কবিতা কই ?
খুচরো বিক্রেতা থেকে পাইকারি কাওরান বাজার অবধি
ছুটোছুটি নিত্যই , একটি অন্তত কবিতা পেয়ে যাই যদি ।
তা হলে ভঙ্গুর ভালোবাসাও পেয়ে যাবে একটি ভালো বাসা ।

পকেটে ভ’রে বেশ কিছু শব্দ ছুটে যাই বার বার হাটবাজারে
যদি পেয়ে যাই অন্তত একটি কবিতা, তা হলে মূমূর্ষ এ ভালোবাসা
হয়ত বেঁচে যাবে , ভেন্টিলেটারে নে’য়া নিশ্বাসে কবিতারই বিশ্বাসে
মাঝে মাঝে খুচরো পয়সার মতো, খুঁটে খুঁটে নিয়ে যাই অক্ষরেদের
নিকেলের ঝনঝনানি শব্দ শুনি বটে, কিন্তু কবিতা খুঁজে পাইনা কোথাও
বিপনী বিতানের ঝলমলে আলো দেখি, শুনি কবিতাবিহীন কাহিনী সর্বত্রই ।

বিনে পয়সায় শুনি দূর্যোগের দুঃসহ সব গল্প গাঁথা, রূপোলি পর্দায় দেখি
ধূসরিত কত শত ছবি, ঝাপসা করেছে যাকে দৈত্যদের অপচ্ছায়া
ভেদ বুদ্ধির নির্বুদ্ধিতার আগুনে নিত্যই পোড়ে বাড়িঘর এবং মানবতাও
এ কাজে করিৎকর্মারা বিনিয়োগ করেন ধর্মের মূলধন, কেনেন অধর্ম রাশি রাশি
পোড়া বাড়ির ভষ্মে আমি বোকার মতো বৃথাই খুঁজি কবিতার কথাদের
ইয়েমেনের ক্ষুধার্ত শিশুরা এখন কংকাল রীতিমতো, সৌদি নিষেধাজ্ঞার বেড়াজালে ।

নির্যাতন নিপীড়নের প্রশস্ত পথটা দীর্ঘ অতি , সেই মিয়ানমার থেকে ইয়েমেন অবধি
দুঃসহ দানবেরা কখনও থামে রামু কিংবা রংপুরে , কখনও গুজরাটের মফস্বলে
কখনও হিন্দু, কখনও মুসলিম , শিয়া কিংবা সুন্নি ,বৌদ্ধ- খ্রীষ্টান এই অভিধায় বিভক্ত মানুষ
রক্তের নেশায় করে একে অপরকে পান,মদমত্ত দানবের দৈন্যকে ঢাকে অহং ‘এর আবরণে
সেখানে কবিতা আমি পাবো কোথায় তোমার জন্যে হে প্রেয়সী শান্তি আমার
এমনই গদ্যময় গহীন আঁধারে নিমজ্জিত, যে পংকিল ও পথে , পংক্তি কোথায় পাই ।

একটি কবিতা কিনে , উপহার দেবো তোমায় এ কথা যেন এখন উপহাস কেবল
আমি নিরূপায়, জানি শান্তি প্রেয়সী আমার চোখ বেয়ে পড়ে তোমার দু ফোঁটা জল।

২০শে অক্টোবর ২০১৭ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *