সর্বনামিক সত্বা

পড়ার বইয়েরা যে সব সারি সারি দাঁড়ানো থাকে
কুচকাওয়াজে প্রস্তুত সৈন্যদের মতোই, তোমার শেলফে
ভেবেছিলাম সেখান থেকেই নেবো জীবনানন্দের কবিতাদের বেছে
তারপর হৃদ্যিক নদীর পাশে দাঁড়িয়ে, আওড়াবো দু চারখানি কবিতা।
অকষ্মাৎ হাত বাড়াতেই দেখি পশমি কাপড়ে ঢাকা ডায়েরি তোমার
ফেইসবুকে সচিত্র আলপচারিতার এ যুগে ডায়েরি দেখে চমৎকৃত আমি
যেন কয়েক দশক পিছিয়ে গেল কী-বোর্ডে রাখা আঙ্গুলগুলো আমার
ডায়েরির নরম আবরণে হাত বুলিয়েই বুঝে নিলাম তোমার নীরব অস্তিত্ব।

ততক্ষণে কল্পনার চালচিত্রের হাল-চাল গেল বদলে, বিস্ময় হলো বৃদ্ধি।
আটপৌরে এই আবরণের অন্তরালে যে লুকিয়ে আছে সেতো তুমিই জানি ।
পাছে ধরে ফেলো আমার এই চৌর্য বৃত্তি, পিছিয়ে এলাম কয়েক ধাপ
এ যেন আকাশ ছুঁতে গিয়ে , খসে পড়া তারার মতোই বিক্ষিপ্ত বেহাল অবস্থা
তবু চুম্বকের মতোই আমার এ ইতস্তত ইস্পাত সত্বাকে টেনে নিলো ঐ পশমী ডায়েরি
হেমন্ত -হাওয়ায় শীতার্ত মন আমার উষ্ণতার আশায় ফিরে গেল তারই সান্নিধ্যে।
বুঝিনি ঠিক রোজনামচার ভেতরের হৃৎপিন্ডটা কাঁপছে তোমার, নাকি এ আমারই আঙ্গুল
কেবল বুঝেছি এটুকুই এতটা কাছাকাছি তোমার, আর কখনই পৌঁছায়নি আমি ।

পাতা উল্টাতেই দেখি নাম নয় , সর্বনামেই ভরে গেছে তোমার ডায়েরির পাতা
সেখানে আছি কী নেই আমি জানিনা , “সে” আছে জুড়ে এই খেরোখাতা।
বিপুল বিস্ময়ে ভাবি অকারণেই বুঝি , ব্যাকরণে সর্বনামের অযথা এ আনাগোনা
বিশেষ্য পদবাচ্য এই আমি নির্বিশেষেই হারাই, ডায়েরির শব্দদের যায় না আর শোনা।

২৬ শে অক্টোবর ২০১৭, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *