বিচ্যূত ট্রেনের বিভ্রান্ত যাত্রী

বেশ তো চলছিল দ্রুতবেগে ট্রেন তোমার
বৈদ্যূতিন সময়ের সঙ্গে তাল মিলিয়ে
এতটাই নিপুণ চালক ছিলে তুমি
যে দস্যু-দানবেরা দৈন্য বুঝলো নিজেদেরই
এবং অতএব দস্যুতাও নিশ্চিহ্ন হলো নিমেষেই ।
আমার মতো নিরীহ যাত্রীরা হলো নিশ্চিত ও নিরাপদ ।

পতাকাবাহী ট্রেনটি দুঃসাহসী গতিতে চলছিল
তেতুলিয়া থেকে টেকনাফ অবধি শ্রদ্ধায় আনত
জনতা কৃতজ্ঞ বোধ করে নিপুণ চালিকা শক্তির প্রতি ।
দ্রুতগামি এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী হয়ে গর্বে ফুলেছিল বুক
আমাদেরও ; তা হলে আচমকা চমকে হোঁচট খেলে কেন
সিগন্যালম্যানের নিষেধাজ্ঞা মানতে কে করেছিল বারণ !

চালক , তুমিতো বিচক্ষণতার প্রমাণ দিয়েছো ঝড়ের রাতে
বৃষ্টি বাদলে সৃষ্টি করেছো ইতিহাস সোনালী রং এর
কেন তবে সিগন্যালম্যানের নিষেধাজ্ঞার প্রতি এ অনীহা
মসৃণ এ জয়যাত্রায় কেন আমরা অকস্মাৎ লাইনচ্যূত ।
সে তো বেচারা বিচারকের মতোই বিপদে থামিয়েছিল তোমাকে
ঠুনকো অহংকারে তোমার, কেন তবে সে আজ ঠুঁটো জগন্নাথ।

চালক হবার খায়েশ ছিল না কস্মিনকালেও তার
স্টিয়ারিং হুইলটা নেবে কেড়ে সে সমরশক্তি তো তার নয়
এক মাত্র শক্তি ছিল তার বিপদের সংকেতে সাবধান করার
নতুন আনকোরা কোন চালক যদি সিগন্যাল না মানে ভবিষ্যতে
কী হবে বলো , হুইসলটা যে তার হঠাৎ তুমি নিলে কেড়ে
এতদিনের গোছানো সংসার তোমার হয়ে গেল এলোমেলো।

থেমেসিসের নেমেসিসে কী থমকে যাওয়াই ছিল নিয়তি
সিগনালম্যানের বিবেচিত বিচারে এখন এঁকে দিলে যত যতি।

১৮ ই অক্টোবর ২০১৭, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *