শেষ, তবুও বিশেষ

ব্যস্ত শহরের ব্যালকণির এক কোণে
মনে পড়ে কি তোমার, আঁতেল আলাপের অন্তরালে
প্রেমের প্রচ্ছন্ন গুচ্ছ গুচ্ছ প্রলাপের কথা ?
প্রলাপ ! হ্যাঁ এখন অবশ্য অতিক্রান্ত সময়ে প্রলাপই বটে ।
প্রচ্ছন্ন ! হ্যাঁ প্রচ্ছন্নই বটে কারণ বাইরে দাঁড়াতেন এসে
ওয়ার্ডসওয়ার্থ থেকে রবীন্দ্রনাথসহ তাবৎ কবিরা
জেইন অস্টিন ও মাঝে মাঝে আসতেন ডার্সিকে সাথে নিয়ে
তাই ঝাপসা চোখেই দেখতে স্বচ্ছ আয়নার ভালোবাসা।

প্রতি- নায়কের প্রবল দাপটে লাজুক শব্দগুলো আমার
মনের ভেতরে যতটা উচ্চারিত ততটাই নীরব বাইরে
অমন মুখস্থ বিদ্যা আয়ত্তে ছিল না কস্মিনকালেও
যে শেক্সপিয়ারকে কান ধরে হাজির করবো তোমার মনের মঞ্চে
কিংবা কার্ল মার্ক্সকে কিউবায় স্থাপনের কাহিনী বলে যাবো নিমেষেই
আসলে কী জানো , তুমিও বুঝি বোঝোনি, কে নায়ক , কেইবা প্রতি নায়ক
বিস্ময়ে বিমূঢ় হয়ে চেয়ে দেখেছো কখনও উভয়ের পানে
নত নয়নে চেয়েছো কখনও , কখনও দেখেছো চাতক চোখের বৃষ্টি চাওয়া।

কৈশোরিক শব্দের মালা গাঁথা শেষ হয়েও হলো না শেষ
নানান কিস্তিতে চললো সে কাহিনী নব যৌবনের তীর ঘেঁষে
অতঃপর নায়ক ও প্রতিনায়ক উভয়ই পরাস্ত মনের মল্লযুদ্ধে
তুমি ও লাগালে তালা মনের দরজায়, চাবি দিলে ছুঁড়ে গভীর বনে
এবং তারপর লক্ষী বালিকার মত যৌবন তোমার করলে সমর্পণ
অনাকাঙ্খিত এক অন্য সত্বার সমীত্তাপপে , যার প্রকৌশলি মন
সুকৌশলে নিয়েছিল তোমার দেহখানি , নিজেরই ভেবে করেছিল ভোগ
বোকার স্বর্গে করেছিল বসবাস, তুমি ছিলে নিরুত্তাপ, নির্লিপ্ত বরাবর।

তারপর সুদীর্ঘ এক নোটিশ জারি হলো ঈশ্বরের আদালতের,
অনুকুলে তোমার। চলে গেলে পার্থিব এ প্রান্ত থেকে ওপারের ডাকে
এখন বুঝি ঈশ্বর যাকে ভালোবাসেন , সেখানে নিতান্তই তুচ্ছ হয়ে থাকে
নায়ক কিংবা খলনায়ক , স্বামী তো নির্ঘাত থেকে যায় আসামি হয়ে
বড় জানতে ইচ্ছে করে , ওপারের ঐ কূলে শুনতে কি পাও তুমি আজও
স্মৃতি জাগানিয়া সেই গান , যা হয়ত একদা নিতান্তই বেসুরো ছিল সেদিন
শোনো কি এখনও গলির ধারের রিকশার টুংটাং , অথবা
সেই ফ্ল্যাট বাড়ির দরজায় কলিং বেলের কোমল শব্দ ।

চায়ের কাপের ঊষ্ণ ধোঁয়ায় এখনও খুঁজে বেড়াই অনুচ্চারিত সেই ভালোবাসা
স্বর্গের বাগানে বসে জীবনানন্দের নিঃসর্গ কী কখনো জাগায় জীবনাতীত আশা !

৯ই অক্টোবর ২০১৭, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *