গ্রহ -উপগ্রহ নিয়ে আজকাল এতটাই মাতোয়ারা
বিজ্ঞানি এবং অজ্ঞানি নির্বিশেষে সকলেই
যে গ্রহণের অন্ধকার দেখতে ব্যতিব্যস্ত হয়ে পড়ে মানবকুল।
কালো চশমার অবাক করা আলোয় দেখে যেন কৃষ্ণকুল।
কতটা ক্ষণ সূর্যকে রাখবে ঢেকে চাঁদ
অথবা অন্ধকারের আয়তন হবে কতখানি দীর্ঘ
সে নিয়ে হিসেব-নিকেষ;জ্যোতির্বিজ্ঞানিরা মাপেন জ্যোতিবিহীন সময়
এ জনমে আর এমন অন্ধকার দেখবে না তাই শোকার্ত সব হৃদয়।
মধ্যদিনের মোহ হয়ে নামে যখন এক রাশ আঁধার
শিশু সুলভ হাত তালি তখন প্রকৃতির আনাচে-কানাচে
এ অন্ধকার দেখতে বন্ধ দ্বার ভেঙ্গে বেরিয়ে আসে অগণিত মানুষ
অনামিক আনন্দে আত্মহারা সব ওড়ায় কল্পনার ফানুস।
আরও ঘুটঘুটে আঁধারে বসবাস বিবির বাজারের সুরুয মিয়ার
প্রদীপ জ্বালাবে কেরোসিন তেলে , সামর্থ্য তার কোথায় !
বন্যার জলে ভেসে যাওয়া সংসারে সবটুকু এখন অন্ধকারেই ছাওয়া
এ নিয়েই তার নিত্য বেঁচে থাকা, এ নিয়েই প্রতিদিন তরী বাওয়া।
পরিবারের পরতে পরতে তার প্রত্যহই সূর্যগ্রহণ
চন্দ্রগ্রহণ চলে প্রতি রাতের অন্ধকারে
নুন আনতে পান্তা ফুরোনো এ কুটিরে থাকে না কখনই আঁধারের অভাব
অথচ সূর্যগ্রহণ দেখা বাবুরা তো এখনও দূরবীনে দেখেননি এর প্রভাব ।
তাই ভাবে বিস্মিত চোখে , আঁধার দেখার এ উৎসবে আছে কী বা এমন আনন্দ
গোটা বিশ্ব যখন অন্ধকারেই ছেয়ে থাকে, তখন পৃথক কতটুকু ভালো থেকে মন্দ।
২৩শে অগাস্ট ২০১৭, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ Anis Ahmed