জন্মদিনোত্তর স্বগতোক্তি

সেই চৌকষ কবি , চেনেন যাঁকে সকলেই প্রায়
চিত্ত যিনি জয় করেছেন সংখ্যাতীত ভক্তের
আইন্সটাইনি আইন বুঝেছিলেন পুরোদমেই বুঝি
নইলে আপেক্ষিকতার সুত্রের এমন নিরপেক্ষ বিশ্লেষণ
করেন তিনি কেমন করে? জন্ম-মৃত্যুর নির্ভুল অংক কষে
কাব্য-কথায় চলে আসে বাহ্যত বিব্রতকর এক সত্যকথা।

প্রৌঢ়ত্বের পাঁচিলের প্রান্তিক ভাগে এই যে অবস্থান আমার
পড়ন্ত বিকেলের রোদ পোহানোর বাহ্যিক বিলাসিতায়
পুড়ন্ত সিগারেটের ক্ষয়িষ্ণু অস্তিত্ব নিয়ে টিকে থাকি
সুখে এবং অসুখেও, সুখটান দিই নির্বিঘ্ন নির্লিপ্ততায়
সেখানেও জন্মদিনের সংগে মৃত্যুদিনের দূরত্ব যে ক্রমহ্রাসমান
তিক্ত-তীব্র সে কথাই মন্ত্রের মতো মনে করিয়ে দিলেন কবি।

ঝাঁঝরা হয়ে আসা হৃৎপিন্ড ও হৃদয়ের তফাৎটা বাড়ছে ক্রমশই
ঘুণধরা হৃৎপিন্ডের অন্তরালে এখনও গুণ গুণ করে সবুজাভ হৃদয়
বুঝিনা মেঘাচ্ছন্ন দিন যে অন্তহীন অন্ধকারে ডুবতে পারে যখন তখন
তবুও থেকে যাই নিশ্চিন্তেই নিশ্চিত এক আলোর প্রত্যাশি হয়ে
আঁধার আবরণের অন্তরালে যে অন্তহীন আলোর মিছিল চলে
তাতেই শামিল হবার বিমূর্ত আনন্দে বিভোর থাকি আজকাল প্রায়শই ।

জন্মদিন জানান দিক , জীবন অবসান ঘনিষ্ঠ হয়ে আসে ক্ষণে ক্ষণে পলে পলে
আলোর প্রত্যাশী আমি , আসন্ন আঁধারের আশংকায়, তুমি ভাসো চোখের জলে

৭ই মার্চ ২০১৭ . ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ Anis Ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *