চর্যাপদ থেকে সেই যে কবে পদচারণা তোমার
উচ্চারণের উদ্ভাবনী আঙ্গিনায় নেমে এলে তুমি
হিমালয়ের পাদদেশ থেকে বরফ গলা ঝর্ণার মতো
প্রিয়তমা অক্ষরেরা হে আমার ,সবুজাভ এই প্রাঙ্গণে
দেখি প্রাণ ভরে তোমাদের , দেশে যেমন তেমনি বিদেশেও।
কণ্ঠে ধারণ করি যতটা, তার ও অধিক রয়ে যাও অন্তরপুরের
নিশ্চিন্ত গলিতে যেখানে ঘাতকের আঘাত হয় নিশ্চিত ঘায়েল।
জয়ধ্বনি শুনি তোমাদেরই , আমারই একান্ত অক্ষের অক্ষরেরা ।
ইতিহাসের সুদীর্ঘ রাজপথ ধরেই যাত্রা তোমাদের অক্ষরমনিরা আমার
চড়াই উৎরাই পেরিয়ে , জীবন্ত হয়ে থাকো আমার হৃদয়ে বরাবর
কখনও নির্বাহী আদেশে, আবার কখনও বা বন্দুকের আঘাতে বিক্ষত
হয়েও অক্ষত থাকো অক্ষরেরা আমার অনুভূতির অঙ্গনে নিয়তই ।
বায়ান্নর বরকতদের সেই যে রক্তক্ষরণ, তাতেই টিকে গেলে তোমরা
নইলে কথার এ মালা সাজাতাম কি কেবল বিদেশি কন্টক হারে
শব্দ গাঁথা কি সম্পূর্ণ হতো পরিপূর্ণ এক পরিতৃপ্তির মধ্য দিয়ে
কবিতার ছন্দ কি কখনও তুলতো বিস্ময়কর স্পর্শের এক স্পন্দন!
অক্ষরেরা ছিল বলেই রবীন্দ্রনাথের গদ্য হয়ে গেল শেষের কবিতা
নজরুল ও নির্ভয়ে এঁকে দিলে আপাদমস্তক বিদ্রোহীর ছবিটা।
৩ রা ফেব্রুয়ারি ২০১৭ ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed