কথায় ও কবিতায়

সেদিন পাতালরেলে তিল ধারণের জায়গা ছিল না বিন্দুমাত্রও
গোলাপি টুপি পরা শত সহস্র মাতা ভগিনী কন্যার
কল-কোলাহলে পূর্ণ ছিলো ট্রেনের কামরা, উপচে পড়া ভিড়ে
ছিলেন মানুষের অবিভাজিত অধিকারে সোচ্চার পুরুষেরাও।
ভীড়ে প্রায় চিড়ে চ্যাপ্টা হতে হতেই কোন মতে দরজা ঠেলে
ভেতরে প্রবেশ করতেই , সম্ভবত আমার প্রায় সিংহভাগ পক্ক কেশের কৃপায়
দড়াম করে দাঁড়িয়ে গেল শ্বেতাঙ্গ এক কিশোর নিজের আসন ছেড়ে
চমকে থমকে গেলাম আমি, মানবিক মূল্যবোধের চমৎকার এ নিদর্শনে।

পাশেই বসা ছিলেন মধ্যবয়সী এক নারী, হাস্যমুখে স্বাগত জানালেন তিনিও
সামনের আড়াআড়ি আসনে বসা এক বৃদ্ধার মুখে ছিল অম্লান হাসি।
এ কথা সে কথায় জানলাম , এসেছেন তাঁরা সুদূর শিকাগো থেকে
সকল ঘৃণার বিপরীতে অবস্থান নিতেই ময়দানের মহিলা মিছিলে যোগ দিলেন ।
কিশোর বালকটি, যার পঞ্চদশ জন্মদিন সেদিন সেও যোগ দিল সমাবেশে
মা ও নানুর সঙ্গে। পেছনের আসনে বসা তার প্রায় সমবয়সী বোনেরাও তাই।
সমবর্ণের লোক তো নই আমি , নই একেবারেই বিপরীত বর্ণেরও, ধোপার কুকুর যেন–
না ঘরের , না ঘাটের তবু তার প্রতি তাঁদের সহানুভূতি নয় , সম্মান ছিল প্রশ্নাতীত।

সে যে কেবল উচ্চারিত শ্লোগান নয় , নয় প্ল্যাকার্ডের বর্ণিত বাণী
হাতে কলমেই বুঝিয়ে দিল , মিছিল-ফেরা গোটা পরিবার
আমেরিকা হয় মহান তখনই , যখন সবার উপরে মানুষ হয় সত্য।
বাসী-অভিবাসীর বাসি বিতর্কের বিন্দু-বিসর্গ নিয়েও তাঁরা বিব্রত ,
বললেন বৃদ্ধা কথা প্রসঙ্গেই পঞ্চাশের ফেলে আসা দশকে ফিরবেন না তাঁরা আর
সম্মুখ এ জয়যাত্রায় এগিয়ে যাবেন সকলেই হাতে রেখে হাত
আরও জানলাম , অভিভূত হয়ে গোটা পরিবারটাই ইহুদি ধর্ম বিশ্বাসী
তাঁরাই জানেন নাৎসি জার্মানিতে , ঘাতক হাতের নির্মমতার কথা।

অবাক হই ভেবে বার বার , বিদ্বেষ কেন আমরা অযথা হৃদয়ে পুষে রাখি
ইহুদি , নাসারা, হিন্দু-বৌদ্ধ যেই হোক , কেন শুধু বার বার বিদ্বিষ্ট ছবি আঁকি।

২৩শে জানুয়ারি ২০১৭ ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *