অরিন্দমের জবাবদিহি

“কথা ছিল লিখবে কবিতা আমার জন্য” ,
অরণির সেই অনুরোধের কথা ভুলে গেছে অরিন্দম একেবারেই,
কথা ছিল কি ? জিজ্ঞেষ করতেই অরণি জ্বলে উঠলো আদিম উষ্মায়
ঠিক যেমনটি জ্বলতো পাথরে পাথর ঘষার দিনগুলোতে ।
মন-পাথরকে জ্বালিয়ে দিয়ে গেল অকষ্মাৎ,
আলো এবং উষ্ণতার যুথবদ্ধতায় অভিভূত আপন-ভোলা অরিন্দমও।

সময়ের ধুলো ঝেড়ে স্মৃতির উঠোন এখন একেবারেই নিকোনো
ঐ তো ঐ শিউলি গাছের তলায় , শারদীয় এক সন্ধ্যায়
অরিন্দম কথা দিয়েছিল কবিতা লিখবে অরণির জন্যেই ।
পুকুর পারে নূপুর বাজিয়ে অরণি আসতো, বলা যায় বিনা নোটিশেই
আরও পরে অভ্যস্ত অপেক্ষায় অরিন্দমের অনুভবেরা ব্যাকুল হতো
অরণির অকষ্মাৎ অনুপস্থিতিতে নিজেরই অজান্তে চোখ তখন পদ্মপুকুর।

সময়ের সিঁড়ি বেয়ে অরণি এখন অতীত থেকে বর্তমানে উপস্থিত
কবিতা লেখা হয়নি এ লজ্জা কোথায় লুকোবে বলো অরিন্দম আজ
উচ্চারিত শব্দ অনুচ্চারণের চুম্বনে তবু থাকে সিক্ত, রিক্ত এ মনে
অরণি কি শুধু বোঝে কবিতার কথা, ভালোবাসার বাকিটা কি গদ্য কেবল ?
গৎ বাঁধা ছায়াছবির কাহিনীর মতো অরণি কি চায় গোঁজামিলের মিলন?
প্লেটোর প্রেম কি তবে এথেন্সের মানচিত্রেই হবে আবদ্ধ চিরকাল !

অরিন্দম ভাবে কবিতাতো তার লেখা হয় অরণিরই আপন অস্তিত্বে
জানেনা অরণি কবিতা ও সে একাকার হয়ে থাকে, ভালোবাসার অনুচ্চারিত সত্যে।

৪ঠা জানুয়ারি ২০১৭ ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *