অহরহ অঙ্কের হিসেবে মাপা জীবনের চলিষ্ণুতায়
খুঁজে বেড়াই অনন্ত সেই সময়টাকে, যাকে হারাই
অযথা জীবন-খাতার খসে পড়া প্রিয় কোন পাতাতেই
গাণিতিক ফিতায় মাপ-জোক করে অংশীদারি জীবনটা
ভাগ হয়ে যায় , পলে পলে পঞ্জিকার প্রত্যেক প্রকোষ্ঠে ।
কীই বা ক্ষতি হতো শৈশবে দেখা কাঁঠাল ডালে বসা
বাঁদরের পিঠে উকুন বাছার দৃশ্যটা যদি হতো অন্তবিহীন
অথবা পিঠে ভাগের কুটনীতিতে বাঁদরই হতো বিশ্ববিজয়ী।
খুব দ্রুত পায়েই চলে যাই, শৈশবের সেই খেলার মাঠে
কাদায়-ধুলোয় মাখানো স্মৃতি তুলে আনি হাতের তালুতে নিজেই
মায়ের হাত-পাখার মারের ভয়ে ভাঁড়ার ঘরে লুকিয়ে পড়া
পাকা কাঁঠালের খোসা ছাড়িয়ে , আষ্ঠে-পৃষ্ঠে আঠায় ভরে যাওয়া মুখ
যেন মাকড়সার জালে আটকে পড়া পোকা মাকড়ের বেহাল অবস্থা।
জানালার ফাঁক দিয়ে মায়ের আশ্বাসে , কোন এক বিশ্বাসে ফিরে আসা
আবারও উষ্ণ কোলে ঠাঁই পাওয়া, আঁচলে মুছে দেওয়া বিন্দু বিন্দু ঘাম
এখন সময়ের তুলে দেওয়া দেওয়ালে ঠুকি মাথা কেবল কারাবন্দীর মতোই।
সময়ের প্রকোষ্ঠ থেকে বেরিয়ে আসার সাধ জাগে সে কবে থেকেই আমার
জানি ক্যালেন্ডারের পাতায় ঝুলে আছি , আজও , থাকি হরবছর, প্রতিবার ।
২রা জানুয়ারী ২০১৫। ম্যারিল্যান্ড।
Copyright @ anis ahmed