উৎসব ও উদ্বেগের মধ্যে যে শাব্দিক সাজুয্য
সেতো কেবল বাহ্যিক অনুপ্রাসের অনুরণন
পরিহাসই বলা যায় এক প্রকার।
নইলে উৎসবের আনন্দে কেন উদ্বেগের মেঘ
হবে অধিপতি। কেনই বা তলোয়ারে খন্ডিত হবে জীবন তরী।
এইতো সেদিন বড় দিনের বার্লিন বাজারে
যন্ত্রদানবের যন্ত্রনায় নিঃশেষ হয়ে গেল নিঃশ্বাস আমার ।
বালকের চাঞ্চল্যে স্যান্টা ক্লজের সান্নিধ্যে যেতে চেয়েছিল যে মন
রুদ্ধ হলো সে নিমেষেই যুদ্ধ যুদ্ধ এ প্রাণনাশি খেলায়।
ক্রিসমাসের আলো হলো না জ্বালা, জ্বললো মোমবাতি স্মৃতি তর্পণের।
এ ভাবেই নিহত হই আমি বার বার, হবো হয়ত অনাগত কালেও
কখনও তুরস্কের সমুদ্র সৈকতে আলান কুর্দি আমি
কখনও বা মিয়ান্মার উপকুলে রোহিঙ্গা বালকের লাশ
ঘৃণিত ঘাতকের ঘা সয়ে যাই অসংখ্যবার, তবু হায়
কন্টকাকীর্ণ এই উঠোনে এখনও ফোটে না শান্তির কাঙ্খিত কুসুম।
ক্রুশবিদ্ধ যীশু, মক্কা-বিতাড়িত মোহাম্মদ, বনে নির্বাসিত রাম
গৃহত্যাগি গৌতম শান্তির কথা বলেছেন অসংখ্যবার
অনুসারিরা অথচ তাঁদের নির্বিকার, প্রতিপক্ষ ভেবে পরষ্পরকে
আক্রমণে উদ্যত হয় , উদ্ধত অস্ত্র উঁচিয়ে বহুবার ।
ঈশ্বরে –মানুষে অসহায়ত্বের অবাক করা অন্তহীন এ জোটবদ্ধতা।
সভ্যতার আদি থেকে অসভ্যতার আঘাতে হয়ে আছি লাশ
উৎসবে-উদ্বেগের এই অসম সমীকরণ , সত্যিই এক পরিহাস।
২৩শে ডিসেম্বর ২০১৬; ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed