প্রথম প্রেমের কাব্যকথা

সেই কবে থেকে ভালবাসি জানি না নিজেও
হয়ত মূর্তমান, কিংবা বিমূর্ত কেবল তরল অনুভুতি
তবুও জানি মুক্তির সাথে দেখা হয়নি বহুদিন
বড়জোর স্বপ্নের আবছা আলো অস্পষ্ট দেখেছি,
তার ঘন সবুজ শাড়ির আবরণে নিরাভরণ অবয়ব,
লালটুকটুক আঁচল ভরা সূর্যের আভা।

স্বপ্নে দেখা সেই মুক্তি আমার, সেই প্রথম ভালোবাসা
লুকিয়ে লুকিয়ে খোঁজা যাকে শষ্যের সোনালী আভায়
বকুলের মুকুলে, পলাশের রক্তিম ফুলে ফুলে ভরে যাওয়া
স্বপ্নবৃক্ষের পত্রে পুষ্পে প্রায়শই প্রেয়সী-অন্বেষা নেশার মতোই ।
রমনার বটমূলে রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুরে, বিশ্ববিদ্যালয়ের করিডোরে
অবিরত খুঁজে বেড়াই, আর্টস কলেজের অলিন্দে উন্মুখ আমি।

চর্যাপদের চিত্ত থেকে তোমাকে খোঁজার চেষ্টা চলে চর্চিত কাব্যে
রবীন্দ্র-নজরুল স্বদেশে, বিদেশে মাইকেলও স্বপ্নে দেখেন তোমাকে
কখনও সোনার শেকলে বাঁধা থাকো তুমি , কখনও বন্দী লোহার গরাদে
মুক্তিকে বন্দী করে রাখা, এ কেমন ইতিহাসের নির্মম পরিহাস বলো।
প্রেমিক পূর্ব-পুরুষেরা প্রাণ দিলেন কিংবদন্তীতুল্য নায়কের মতোই
মজনু –ফরহাদের মতোই মুক্তির প্রেমে ফাঁসিতে ঝুললেন ক্ষুধিরামেরা।

আমিও এক ক্ষুদে রামের মতোই সীতা -সন্ধানী থেকেছি দীর্ঘ দিন
যে মুক্তিকে ভালোবাসি আবহমান কাল ,তাকে হারাই ধর্ষিতা ভাষার
বিকৃত অবয়বে, অপসংস্কৃতির অনাচারে অতিষ্ঠ থাকি যেন অনন্তকাল।
অকষ্মাৎ গ্রীক দেবতার মতো এক পিতৃপুরুষ বললেন স্বাধীনতার কথা
স্বপ্নের ঘোরেই সানন্দে দেখলাম মুক্তিকে মুক্তি দেওয়ার নিরাপোষ উচ্চারণ।
মুক্তি তখনও বন্দী দ্বিজাতিতত্বের ঘেরাটোপে, নির্যাতিতা এক তরুণীর মতো।

অগত্যা ডুব-সাঁতার এক রক্তাক্ত নদীতে, সবুজাভ উপকুলে উঠে আসা
মুক্তির সাথে প্রণয়ের পরিপূর্ণতা, পুর্ণ তখন পুরোনো সব প্রত্যাশা।

১৫ই ডিসেম্বর ২০১৪। ম্যারিল্যান্ড।

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *