কবিতার “আউট সোর্সিং”

কারখানায় কবিতার উৎপাদন কমে যাচ্ছে ক্রমশই
ছুটির মৌসুমে ছাড় মূল্যে ছাড়া কবিতায় পোষাবে না আর
কবিতার যে আউট-সোর্সিং হবে অন্য কোথাও, অন্য কারও মনে
বহির-উৎসায়নের তেমন সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আমরা যারা কবিতার ক্রেতা নিয়মিত, লাইনে দাঁড়িয়ে
ছিঁটেফোটা কবিতা কিনি দূর্ভিক্ষের সময়ের সীমিত খাদ্য শস্যসম
তাদের হৃদয় এখনও থেকে যায় ‍বুভুক্ষ প্রায়শই
কবিতার চারাগাছগুলো মহীরুহে রূপান্তরিত হয় না সহজে ।

জোড়াসাঁকোর সেই কবিতাওয়ালা যে বৃক্ষ রোপন করেছিল একদা
সেই চিরসবুজ বৃক্ষের পাতা ও পুষ্প প্রাণিত করে প্রত্যহই আমাদের
কবিতার ফেরিওয়ালারা প্রণোদনা পেয়েছে ঐ আদিপুরুষের কাছে
তারপর থোড়বড়ি খাড়া , খাড়াবড়ি থোড় রেঁধেছে তারা বার বার।

এখনতো দেখি হেমন্তের হিমেল হা্ওয়ায় কবিতার গাছ শুকিয়ে কাঠ
সবুজ থেকে সোনালী এবং অগত্যা ধূসর হয়ে ঝরলো পাতারা সব
অন্য কোন উৎস থেকে উত্তাপে জ্বলবে কি আবার কাব্যপ্রদীপ
ভালোবাসার উষ্ণতায় কি ঝরে যাবে ধূষরতার সব তূষার-কুঁচি !

জানিনা , প্রতীক্ষায় থাকি প্রতিনিয়তই একটা কবিতা কিনবো বলে
মূল্য তার অমূল্য ভালোবাসাই শুধু, শুধবো হয়তো চোখের জলে।

২৮শে নভেম্বর ২০১৬; ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *