নাক ডাকার অমন গগন বিদারি গর্জনে
ঘুম ভেঙ্গে যায় পাড়া-পড়শি সকলেরই
কুম্ভকর্ণের মতো রাক্ষসী নিদ্রায় মগ্ন তিনি
আস্ত একটা বস্তি পুড়ে যায়, তবু ভাঙ্গে না ঘুম।
চতুর্দিকে আর্তচিৎকার , নিদেনপক্ষে কোলাহল
হলাহলে বিষাক্ত হয়ে ওঠে বিশ্ব মায়ের আঁচলখানি।
লেলিহান শিখায় ললিতকলা পুড়ে ছারকার
ছোপ ছোপ রক্তে ভরে গেছে মূর্তমান বিমূর্ত চিত্ররা সব ।
মানচিত্র নিয়ে মান-অভিমানের পালা যখন শেষ প্রায়
যখন দেয়াল ভাঙ্গার খেয়ালে আনন্দে নিমগ্ন বিশ্ব
বিশালতার গৌরবে বেড়ে ওঠার সেই সময় প্রায় পরিপূর্ণ
তখনই নেকড়েরা নিয়ে এলো সমুদ্রসম বিস্তৃত এক পাহাড়।
বিভাজনের সেই পাহাড় ডিঙ্গানো বড়ই দুষ্কর আজকাল
শুদ্ধতার সংজ্ঞায় শয়তান তড়িৎ গতিতেই তৎপর ইদানিং
খোদ খোদাতে আল্লাহতে দ্বন্দ্বের দামামা বাজায় হরদম
ধর্মের আমামার খোলসে লাফায় খলসে পুঁটির দলেরা সব ।
প্রাচ্যে –প্রতীচ্যে , প্রাচীনে নবীনে মগজ ধোয়ার ধোঁয়াশায়
যুক্তিরা সব পথ হারায় গোলক ধাঁধাঁর গোলমেলে শক্তিতে
মানচিত্রে বন্দী হওয়া মানুষগুলো সব অকষ্মাৎ হয়ে যায় গলিত লাশ
ছিঁটে ফোঁটা জনা কয়েক কেবল জাল গ’লে পালায় অন্যত্র।
অতি আচারের অত্যাচারে খান্ডব দাহে খন্ডিত হয় বিশ্ব যখন
তখনও ভাঙ্গে না ঘুম, আমাদের প্রিয় পরিচিত ধুপদুরস্ত বাবুটির
মুখে কুলুপ, কানে তালা দিয়ে দিব্যিই দীর্ঘ ঘুমে নাসিকা গর্জন
অশান্তকে সান্ত্বনা দিয়ে রাখা যেন, এই বুঝি জাগবেন এবং রাগবেন তিনি ।
যাঁর দোহাই দিয়ে রক্তে করি লাল , চিরচেনা এই সবুজ বিশ্ব
তিনি নাকি বিবেক বাবু, হায় তাঁরই নিদ্রায় নিহিত আমরা সবাই নিঃস্ব।
১৮ই নভেম্বর ২০১৬; ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ anis ahmed