নকশী কাঁথার মতো নয় জীবনের গদ্যগাঁথার আটপৌরে কাহিনী
যে সুচারু কারুকাজে করবো উল্লেখ শ্রোতাদের অশ্রুতপূর্ব কর্ণকুহরে
সূর্যের আলোর উষ্ণতা নিয়ে ভ্রুণ আমার করেনি ভ্রমণ ধরিত্রীর বুকে
বরঞ্চ অবাক করা এক শীতল শৈথিল্যে কেঁদে ওঠা আমার ধাত্রীর কোলে ।
এতটা দ্বান্দ্বিক দর্শনের মুখোমুখি হবো জন্মের প্রথম প্রহরে ভাবিনি কখনো
আর ভাববোই বা কেমন করে , ভ্রুণের আদৌ কি কোন গুণ আছে ভাবনার ।
তবে তার পর, বিস্মিত বিবেক নিয়েই চলি এবড়ো খেবড়ো মাটির উপর
একুশের রক্ত তখনও টগবগে লাল , অধিকারের স্বপ্নরা তখন খুব সক্রিয়
আমার হামা দেওয়া সত্বার সমান্তরালেই গুটি গুটি পায়ে আসে স্বাদেশিক স্বাদ
বিস্বাদেও ফেরাই মুখ মাঝে মাঝে যখন মাতৃদুগ্ধে মেশায় ভাষার ভেজাল
যখন কথিত সংহতির নামে সংহার করে স্বদেশের স্বাধীন সত্বা কথার মারপ্যাঁচে
সংকট ও সংগ্রামের পথ ধরেই হাঁটি হাঁটি পায়ে বেড়ে ওঠা স্বপ্নের আঙিনায়।
কিশোরিক চোখে যখন প্রেমের স্বপ্নরা কেবলই ভাসমান তারুণ্যের তরণীর দিকে
যখন ফুলেতে –গানেতে মিতালির মানেতে কেবলই চাই আস্বাদ প্রেমাস্পদের
তখনই ডংকা বাজিয়ে এলো ভিন্ন রকমের ভালোবাসা অন্তরের অন্তরালে
রমনার হ্রদকে রক্তাক্ত করে বটমূলকে উপড়ে ফেলতে ট্যাঙ্কের শব্দ যতই হলো
প্রকট, প্রেম আমার স্বদেশের মাটিতে ততই গ্রথিত সবেগে, গভীর আবেগে।
মনের মাঠে ওড়ালো স্বাধীনতার অভূতপূর্ব পতাকা , প্রেমে এলো প্রাপ্তির পূর্ণতা
সেই থেকে আজ অবধি চড়াই-উৎরাইয়ে বয়ে যায় জীবন-তরী বরাবর বার বার
এখন কেবল ভাটির টানে চলে যাওয়া দূর বহুদূর , পারাবার পারাপার ।
১৮ই সেপ্টেম্বর ২০১৬, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ anis ahmed