দশ দিগন্তের খোঁজ রাখেন এমনই এক দার্শনিক বন্ধু
দীর্ঘশ্বাস ফেলে বললেন সেদিন, “ জানো হে বৎস
প্রত্যাশার পরিমাপ আসলে জীবনের চেয়ে দীর্ঘ”
কিন্তু অকষ্মাৎ কেন বললেন এ কথা, বুঝিনি সহজে ।
মনে হলো এক গভীর ট্রাজেডির ট্রাম্প কার্ড মেলে ধরলেন
সেগুন কাঠের টেবিলে তখন পোড় খাওয়া সৈন্যের পরাস্ত মন।
ততক্ষণাৎ ছেঁটে দিতে ইচ্ছে হলো, দৈর্ঘে প্রস্থে প্রত্যাশার প্রান্তটি
জীবনেরই মাপে মেপে নিতে চাইলাম গহীন মনের আশাদের
কখনও কখনও আশাদের এতটাই ছেঁটে ছোট করলাম
যে তারা জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিসরে প্রস্ফুটিত হলো মনের আনন্দে
কিন্তু সব আশাই নোয়ালো না মাথা নির্বাহী আদেশে আমার
বেড়ে ওঠা বেয়াড়া বৃক্ষদের মতোই বেড়া ডিঙ্গালো অন্তহীন অবজ্ঞায়।
কাঁটা তারের বাধায় বিক্ষত হলো কোন কোন আশা যখন তখন
ঊষ্ণ রক্ত ঝরে পড়লো মনের ধূসর মরুভূমির সবটুকু জুড়ে
আহত মনের চওড়া মূল্যেই বুঝলাম ইহলৌকিক সীমাবদ্ধতাটুকু
সময়ের ফটক পেরুনোর চাবিটুকু যে প্রহর-গোণা প্রহরীর হাতে;
কবে যে তিনি খুলে দেবেন কালোত্তীর্ণ সেই সুগম পথটি
সেই প্রতীক্ষায় কাটে সময় কখনও ভজনে , ভোজনে কখনও বা।
জীবন ও প্রত্যাশার মাঝে সমান সম্পর্ক খোঁজেন যে বিজ্ঞ বন্ধু আমার
জানেন না তিনি এখনও নদী পেরুলেই আছে বিশাল এক সিন্ধু পারাবার।
১০ই আগস্ট ২০১৬, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ anis ahmed