[ ঈদের পোশাক না পেয়ে আত্মহত্যাকারী এক কিশোরের কাহিনী ]
উৎসবের ঊত্তপ্ত আঁচেই পুড়ে গেল হায়
চুয়াডাঙ্গার সেই এক চুনোপুটির পর্ণকুটির
রাঘব-বোয়ালদের রূঢ় উল্লাসে উৎফুল্ল কিশোর
দারিদ্র সীমার ঊর্ধ্বে উড়েছিলো ডানা মেলে।
ছা-পোষা পাখির মতো নিম্নে বসবাস এক দম্পতি
দড়িতে দিলেন এমনই হ্যাঁচকা টান, ডানা গেল খসে
ছা পোষার সাধ রয়ে গেল অপূর্ণ তাদের
কৈশোরে পা দিয়ে স্বেচ্ছায় হলো বালক পরবাসি ।
দাবি ছিলো যৎসামান্যই তার, রাঘব-বোয়ালদের মতো নয়
সহপাঠিদের সহগামি হয়ে চেয়েছিল
পছন্দসই পোশাক একখান আসন্ন ঈদের আনন্দ দ্বিগুণ করতে।
বোঝেনি বালক হায়, দেশ যদিও মধ্যম আয়ের দিকে ধায়
সেতো স্থবির রয়ে গেছে অর্থনীতির সেই দারিদ্র রেখারই নীচে
যেখানে স্বপ্নরা সহজেই সমাধিস্থ হয়, বাস্তবতার বোঝার আড়ালে।
নুন-পান্তার মিলন ঘটাতে ঘাম ঝরে এন্তার যে দম্পতির
তাদেরই সন্তানের পোশাকি সম্ভাবনারা মুখ থুবড়ে পড়ে যায় হায়।
হতাশায় হতোদ্যম কিশোর এখন ফাঁসির কাষ্ঠে ক্রুশবিদ্ধ এক যীশু খ্রীষ্ট
হতবাক আনন্দরা চেয়ে দেখে, কিশোলয় স্বপ্ন এখন দারিদ্রের পদপিষ্ট।
২৯শে জুন ২০১৬, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ anis ahmed