হাজার বছর ধরে বাঙালির পরিচয় ধারণ করেছিলাম আমি
এবং আমরা সবাই ।
সঙ্গীত ও সংস্কৃতিতে , পিঠায় ও পুঁথিতে , বাঁশিতে বসবাসে
আঙ্গিনা ছিল পূর্ণাঙ্গ আমার ।
মানচিত্র নিয়ে অভিমান করিনি কখনও , পতাকা প্রাপ্তির কথা
ভাবিনি তেমন করে ।
নিজ বাসভূমে সার্বভৌম স্বত্বা ছিল এতটাই নিশ্চিত নিরাপদ
যে স্বপ্নে ও সত্যে ফারাক দেখিনি আমি।
সমতট নাকি গৌড় , বরেন্দ্র নাকি রাঢ় , মুসলিম নাকি হিন্দু
সে ইতিহাস জানিনি কখনও ।
তারপর যখন দানবের দলেরা আমার সাজানো উঠোনে রাখল
কালো বুট জুতোর দাগ
আমার প্রিয় পুঁইয়ের প্রান্ত , আমার লাউয়ের লতা হল খুন
বেয়োনেটে বিদ্ধ সবই ।
রবীন্দ্র সঙ্গীতেরা রক্তাক্ত , নজরুলদের নয়ন উপড়ানো
সুর বিপন্ন অসুরের আধিপত্যে
সোঁদা মাটিতে গড়া আমার প্রিয় পর্ণ কুটিরের প্রদীপ নেভানো
পোড়া মাটির গন্ধ পেলাম সহসা ।
জ্বলে উঠলাম আমিও লেলিহান শিখা তখন, রবীন্দ্র সঙ্গীতের মতই
সে আগুন ছড়িয়ে গেল সবখানে ।
আমারই কাঁচা হাতে আঁকা হল মানচিত্র খচিত সেই প্রথম পতাকা
যাকে সমুন্নত রাখতে রক্তক্ষরণ
যার জন্যে শওকত ও শর্মিষ্ঠার রক্ত বয়ে গেল অভিন্ন সেই নদী দিয়ে
যেখানে স্বপ্নের সাঁতার কাটতো তারা ।
মাছেরা তখন মুক্তিকামি , বিদ্রোহে ফুঁসে ওঠে পদ্মার নিস্তরঙ্গ জল,
আকাশ প্রত্যাশি রংধনুর ।
অকস্মাৎ মেঘলা আকাশ সোনা রঙে ভরে উঠল ,আনন্দের অবশ্যম্ভাবী
উথালি পাথালি চারিদিক ।
জল্লাদের জল্পনা তখন জাহান্নামের আগুনে পুড়ে ছারখার নিমিষেই
বাংলার জয়ে মুখরিত দশ দিগন্ত ।
……. এমনি করেই জাতির হল অবশম্ভাবি এক জাতি রাষ্ট্রে রূপান্তর
সূর্য সবুজে খচিত বীর্য পতাকা বরাবর উজ্জ্বল করে প্রবাসী অন্তর।
১৪ই ডিসেম্বর ২০১৫, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ anisahmed