বিভ্রান্ত এই আমি বৃদ্ধ বৃক্ষকে শুধাই “ বলো তো ভাই , তুমি কি নারী না পুরুষ ”?
অবাক বিস্ময়ে বৃক্ষ চেয়ে থাকে;
এহেন প্রশ্ন করেনি তাকে এ যাবৎ কোন পাগল কিংবা পন্ডিত
বৃক্ষ বলে , “নারী বা পুরুষ যেই হই না কেন , ফলেতে আমার পরিচয়” ।
অতঃপর শুধাই আমি সুদূর বহতা নদীকে , “হে নদী,তুমি কি নারী , নাকি পুরুষ?”
নদী বলে নির্মম এ প্রশ্ন সে শোনেনি কখনও আগে, চায় না শুনতে পরেও
বহমান জলেই নিমজ্জিত সে , সত্বার সকল পরিচয় নিহিত সেখানেই ।
কক্সবাজার থেকে কী-ওয়েস্টের উপকুল অবধি বালুকা রাশিতে ফেলি পায়ের ছাপ
বিপুল উপকুলকে বলি , “ কুল কিংবা উপকুল যেই-ই হওনা তুমি ,
এটুকু বলে যাও না কেন, তুমি কি পুরুষ , নাকি নারী ?
সমুদ্রগর্জনের মতো অট্টহাসিতে ফেটে পড়ে ফেনিল উপকুল; বলে, “বড্ড বোকা মানবকুল
নারী-পুরুষের লিঙ্গ বিভেদ উলঙ্গ করে মানবতাকেই শুধু বার বার ।
সত্যিই তো বিচলিত এক অস্তিত্ব নিয়েই বেঁচে আছি আজকাল
যখন লিঙ্গ বিভেদের বিতর্কে খুন হয়ে যায় নির্বিশেষে নারী ও পুরুষ বাহ্যত।
লাল টকটকে রক্তে কি বোঝার উপায় আছে কে ছিল নারী , কে-ই বা পুরুষ!
বাহ্যিক ভেদাভেদেই সংজ্ঞা নির্ধারণ চলে আজকাল,
দেহ সর্বস্ব সংজ্ঞার বাইরে মনের অনুভুতি নিয়ে কেউ করে নাতো বাছ বিচার।
চুম্বকের সুত্রেই খোঁজে বিপরীত মেরু-আকর্ষণের দীর্ঘ কর্ষিত ব্যাখ্যা শুধু।
মনের কুল ঘেঁষে যাওয়া অনুভবেরা , অবহেলায় থেকে যায় প্রান্তিক হয়ে।
শুদ্ধ-অশুদ্ধের যুদ্ধে বিশুদ্ধবাদীরা হত্যা করেন অসংখ্য ঋদ্ধ হৃদয়।
মানবতার এ খুনকে মানবেন কী খোদ খোদা নীরব নিষ্ক্রিয়তায়
নাকি নিজের তেজস্ক্রিয়তায় পোড়াবেন জঞ্জাল যত যত্র তত্র ?
আর কতকাল ধর্ম হবে অধর্মের অস্ত্রধারণ, অপব্যাখ্যায় অপদস্থ বার বার
সন্বিত ফিরে পাবে কবে ট্রিগার চাপা আঙ্গুলেরা, চাপাতি ধরা কব্জি!
বিস্ময়ে বিচলিত হয়ে ভাবি , কেন এই বাহ্যিক বিভাজন বরাবর সাদা ও কালোতে
কেন বুঝিনা এখনও আমরা অনেক সত্য আছে লুকোনো রং ধনুর রঙিন আলোতে
১৩ই জুন ,২০১৬, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@ anis ahmed