গলির ধারের মতলুব মিয়ার
সুঁই-সুতোর এ-ফোঁড় ও -ফোঁড়
কিংবা সেলাইয়ের কলেই পায়ের ছন্দেই
রুটি-রুজির সঙ্গে মিশে আছে যার
নৃত্যানন্দ যেন বা , নিত্যানন্দতো বটেই;
যাকে দর্জি বলে এসছি আশৈশব ,
খলিফা বলে গাঁয়ের লোক —
তাতেই খুশি ও , জানেনা কতটুকু শাসন করে
জীবনে আমাদের , বড় জোর পাঞ্জাবির দৈর্ঘ্য
কিংবা পায়জামার ফিতে পর্যন্ত ওর দৌড়।
সেটা ও কম কিসের , পোশাকি অবয়বে
রক্ষা করে নিত্যদিন , নইলে
নীলাম্বরে দিগম্বর হবার আশংকা
থেকে যেতো সকলেরই।
কিন্তু এ সব তো বাহ্যিক কথা
অন্তরেতে অনুভব করি দর্জির ঐ
ফিতে , ঘাড় থেকে নেমে এসেছে
পাঞ্জাবির ঝুল অবধি যেটি;
কিংবা কাঠের ঐ স্কেল
মাপে যা কাপড় নানান বর্ণের,
তাতেই মাপি আমি , জীবনের দৈর্ঘ্য ।
শৈশব থেকে এখন অব্দি
দর্জির মাপে দৈর্ঘ্য বেড়েছে যত
কাপড়ের , তারই ব্যস্ত –অনুপাতে
কমে আসছে , দৈর্ঘ্য ইহলোকিক।
দৃষ্টির দূরত্বের মতো , জীবনের আয়তন ও
এখন ক্ষীণতর হবে ক্রমশই,
হাতঘড়িটা চলবে হয়ত অনেকদিন
ঘড়ির নীচে হৃৎ স্পন্দন কমে আসবে ক্রমশ।
মাপ-জোক ছাড়াই মতলুব মিয়া এবার
ইহকালের শেষ পোশাকটি সেলাই করবে ।
পুতুল নাচের সুতোটুকু টেনে নেবেন তিনি
যিনি নাচিয়েছেন আজন্ম , এবং আমৃত্যুও।