সিঁথির সিঁদুর নিয়ে দুঃস্বপ্ন আজকাল প্রতিদিনকার
চমকে উঠি মধ্যরাতে চৌচির মাথার রক্তপাতে
সেই যে সেদিন পাড়ার মাস্তান ধমকে ছিলো
সেই থেকে থমকে গেছে আমারই অস্তিত্ব।
সভ্যতার বহমানতায় স্থবির হয়ে থাকি দিনরাত,
স্বামীর মঙ্গল কামনার আবহমান রক্তিম প্রতীক
পাছে হয়ে ওঠে যাবতীয় অমঙ্গলের অনাকাঙ্খিত
উৎস কিংবা শাঁখের শব্দ যদি নিঃশব্দে হয় নিষিদ্ধ ,
শাঁখার চিহ্নটুকু ও মুছে দিতে উদ্যত আজ উদ্ধত
কিছু মানুষ । নিজ বাসভূমে পরবাসী থেকে যাই কেন!
অথচ কী আশ্চর্য একাত্তরেতো সগির মিয়ার সাথে
মালোপাড়ার সুবীর মাঝিও রক্ত দিয়েছিল অভিন্ন নদীতে
প্রিয়বালার সঙ্গে পারভিন বানু ও ধর্ষিত একই তাঁবুতে ।
মণিন্দ্র দা আর মুণির ভাই কী একই আগুনে হয়নি দগ্ধ
কামাল ও কৃষ্ণ একই মাটিতে শুয়ে আছে আজও ।
মাগরিবের আজান, মন্দিরের মঙ্গল ঘন্টা ধ্বণিত
এবং প্রতিধ্বণিত অভিন্ন লয়ে, তবু সংখ্যাতাত্বিক
হিসেবে , হে গুরু , লঘু কেন আজ আমি তোমার চোখে
সিঁদুর ও শাঁখার বিপক্ষে এ গোপন হুকুম এবং হুমকিতে
ক্ষুব্ধ আমার এ মন যাকে সঁপেছি আমি স্বদেশের কাছে।
তাই বিষন্ন এ মনে চাঁদের পানেও চাইতে চাই না আর
শশীবাবুও সমর্পিত আজ সাঈদি ও তার সাঙ্গদের সহবতে।
১৬ই জানুয়ারী ২০১৪ । ম্যারিল্যান্ড
copyright@Anis Ahmed
[* ২০১৪ সালে এই কবিতাটি লিখেছিলাম শিমূল সাহার একটি বিক্ষুব্ধ বার্তার অনুকুলে। সেই সময় আমার কোন নিজস্ব পাতা ছিল না বলে প্রকাশ করা হয়নি]