সোনালি বিকেলের বিড়ম্বনা

সেদিন এক সোনালী বিকেলে
তখনও ফোটেনি কণে-দেখা আলো
দেখা হলো আবার তোমার সঙ্গে।
কণে-দেখা না-ই বা হলো, আলোতো দেখাই হলো
পুরোনো সেই উইপিং উইলো গাছের তলায়
ক্রন্দসী সেই গাছের মতোই কাঁদলে তুমি যতটা
ততোধিক কাঁদালে আমাকেও বার বার ।
যুগল কন্ঠে অভিযোগ ছিল নিথর বৃক্ষের সামনে
করোনা কেন পৃথক করে প্রেমের এমন পরিধিকে
নদীর তীরে, সমুদ্র-সৈকতে কেন তোলে প্রাচীর।

আসন্ন সন্ধ্যায় ঝিঁঝিঁ পোকার শব্দে শুনলাম
দু’জনই আমরা সম্মিলিত এক সুর
সঙ্গীতের মতোই সঙ্গী হলো তারা
যেমনটি হতো একদা গোমতি পারের গ্রামে
অথবা ময়নামতির বৌদ্ধ-বিহারের চারপাশে ।
এই যুথবদ্ধ শব্দদের দেখে আজকাল হিংসে হয়
সঙ্গীতের সুর-সঙ্গমকেও ঈর্ষে হয় রোজ –
উত্কন্ঠার মূহুর্তদের কেমন করে বাঁধে তারা উষ্ণতার আশীষে!
নিষিদ্ধ ফলের মতোই তুমি ঝুলে থাকো শাখায় শাখায়
তবুও জানিনে হতে পারিনে আমি কোন আদম আজও।

বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যে নামতেই ধরেছিলাম তোমার হাত
বার বার প্রতিশ্রুত প্রেমের প্রতিজ্ঞা নিয়েছিলাম দুজনেই
দক্ষ জ্যোতিষীর মতোই হস্ত-রেখা বিশ্লেষণে করেছিলাম মাত
প্রতারক মন দু’টিই মিথ্যে মিলনের আশ্বাস দিয়েছিল কুজনেই

অতঃপর অকস্মাত্ লাফিয়ে উঠে ছ’ফুট দূরে চলে গেলে তুমি
সুগন্ধী স্যানাটাইজার দিয়ে মুছলে হাত তোমার
কিংকর্তব্যবিমূঢ় হলাম আমি, চৌচির হলো ভালোবাসার ভূমি
প্রত্যাশিত প্রেমের বীজাণু বৃক্ষ হলো না তো আর।

জীবাণু ভেবে মুছলে বার কতক, মুছলো ভালোবাসার অনুরাও সব
প্রেমের পরম-অণু প্রাণে রয়ে গেল আমার, হলাম স্তম্ভিত ও নীরব।

২৬ শে জুলাই ২০২০, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@anisahmed

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *