পঁচিশ থেকে ছাব্বিশ

অঙ্কের সেই প্রথম ক্লাস থেকেই তাদের মধ্যে সখ্যতা
কিংবা বলতে পারেন গণিত আবিস্কারের সেই প্রথম প্রহর থেকেই
শৈশবের সেই ফুলেল দিনগুলোতে মা-ই তো বলেছিলেন
এরা পাশাপাশি থাকবে চিরদিন, হিসেবে ভুল করোনা খোকা।
না, সত্তর পর্যন্ত হিসেবটা মিলেছিল ঠিকই
পঁচিশ ও ছাব্বিশ ছিল মাতৃগর্ভে সেই যমজ সন্তানটির মতো
যাকে নিয়ে মায়ের প্রত্যাশা ও প্রস্তুতি ছিল অপরিসীম।

একাত্তরেই হায় প্রথম জানলাম, এরা বৈরিপক্ষ পরস্পরের
পঁচিশে-ছাব্বিশে অবস্থান ভিন্ন মেরুতে সম্পুর্ণ
পঁচিশ হলো নিগ্রহের প্রতীক , রিকশার পা-দানিতে ঝুলে থাকা লাশ
পঁচিশ হলো পুলিশ লাইনে ট্যাঙ্কের গোলাগুলি,
ছাত্রাবাসগুলোতে ব্রাশ ফায়ারে শত শত প্রাণ নাশ।
পঁচিশ ছিল করোনার মতোই বিষাক্ত বিষন্ন এক সময়
উপনিবেশকে উচিৎ করে তোলার নির্মম এক প্রয়াস ।

তারই উল্টো পিঠে, আলোর স্ফুরণ নিয়ে এলো ছাব্বিশ
তখনও ছিল জানি লাশের স্তূপ , কিন্তু ছিল জীবনের আহ্বানও
নতুন আলোয় উদ্ভাসিত ছাব্বিশে শুনলাম স্বাধীনতার ডাক
ভিন্ন এক মহাসড়কের পথে যাত্রা হলো শুরু
বাঙালির রুখে দাঁড়ানো বৃথা যায়নি সেদিন
বছর না ঘুরতেই অবারিত হলো দ্বার, বন্ধ্যা বাংলা হলো সৃজনশীল
তার পর কুচকাওয়াজের তালে, আলোয় আলোয় ভরলো ঘর।

ঠিক তেমনি জানি আবদ্ধ থাকার এই প্রহরের হবে অবসান
জয় বাংলা , জয় বিশ্ব অভিন্ন সুরে গাইব গলা ছেড়ে গান।

২৫শে মার্চ ২০২০, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@anisahmed.

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *