নারী

বাহরে বাহ বাহ আবার হে নারী
তোমাকেই নিয়ে শুনি চর্বিত চর্বণ
টেলিভিশনের রূপোলি পর্দায়
কত টক ঝালে ভ’রে থাকে টকশো গুলো আজ
পুরোনো শেলফ থেকে খুঁজে বের করে সবাই
সঞ্চিতার সেই একান্ত সঞ্চয়টুকু
ভারি গলায় পুরুষ আবৃত্তি করে , বহুল পঠিত সেই লাইন
“ আমার চক্ষে পুরুষ রমণী কোন ভেদাভেদ নাই।”

আশ্চর্য কী জানেন
যিনি গাইলেন উদাত্ত কন্ঠে, নারী জাগরণের গান
গাইলেন সেই বহ্নিশিখা হবার আহ্বান
চাইলেন না অথচ নারী জ্বলে উঠুক প্রভায় ও প্রতিভায়
নারী ও পুরুষের ব্যবধান যাক ঘুচে আজ।
গানে ও শ্লোগানে কল্পনার ফাণুস ওড়ালেন সকল মানুষ
নারী দিবসের অবসান হলো নারীরই জয়গান গেয়ে
নারী তবু থেকে গেলেন পুরুষের কাছে পরাস্ত হয়ে।

ইচ্ছে করে বলি, কেন এ নারী দিবস, পুরুষ দিবস নয় কেন
তবে জানি পুরুষদের জন্য দিবস তো প্রতিদিন
রজনী কেবল দীর্ঘ হয় রমনীরই জীবনে
অথচ কবিতা ও সঙ্গীত সমৃদ্ধ হয় , নারীর সংস্পর্শে
মোনালিসারা হাসেন চারুশিল্পের কর্মকৌশলে ।
নারী হয়ে যান ভাব-বাচ্যের বিষয় প্রতিদিন
অথবা বাসরের আসরে কুড়ান আচার সর্বস্ব প্রশংসা
কখনও নদী হন , ফুল পাতা হন , এমনকী হন পাখির চোখ ।

শুধু হয়ে ওঠা হয় না আর নারী থেকে মানুষ
চুপসে যায় চুপিসারেই নারী দিবসের ফানুস।

Copyright@ Anis Ahmed
March 8, 2019, Maryland

Comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *