ঠিক মালার মতোই বর্ণমালার শব্দে শব্দে গেঁথে
তোমাকে মঞ্চে উপস্থাপনের এই যে প্রচেষ্টা আমার
জানি একে বলবে তুমি, কাব্য বিলাসিতাই বুঝি কেবল।
এই যে তোমার বুদ্ধি ও বোধিকে উপলব্ধি করার প্রয়াস
কিংবা তোমার স্নিগ্ধ সৌন্দর্যকে উপমায় উপস্থাপন করা
এ সব কিছুই কাব্যের উপাদান বলে অগ্রাহ্য তুমি করতেই পারো।
সেদিন সেই উৎসবের উৎস থেকেই
কষ্টের কষে ভরা কলস কাঁখে চলেছো যে অনবরত
লাজুক লতার যে কিঞ্চিৎ সত্বা নিয়ে
প্রত্যাশায় পাখি-মন উড়িয়েছিলে অজানাকে আনন্দ ভেবে
সেতো অকস্মাৎ পাথরে আঘাত খেয়ে এখন রক্তাক্ত
অশ্রুর নদী এখন , শুকিয়ে গেছে শীতার্ত পদ্মার মতো ।
বাসরের সেই আসরেই বুঝি টের পেয়েছিলে বিচ্ছিরি
বর্বরতার এক দুঃস্বপ্ন-ভরা দীর্ঘ রাত
পাশবিক শক্তির আড়ালে বুঝি ছিল না কোন
একান্ত রোমান্টিক অনুভূতি, তাই কাঁচের চুড়ির মতোই
ভেঙ্গে গেল অকস্মাৎ স্বপ্নলালিত সঙ্গমের মূহুর্তরা সব
শংকার ডংকার শব্দে এখনও তোমার ভেঙ্গে যায় রাতের ঘুম।
তবু জানি নৈরাশ্যের মেঘ কেটে উঠবে সুর্যের স্নিগ্ধ আলো
সেই আলোয় ভেজাবে তোমার মন, জাগবে নব-আনন্দে
শুকনো মন আবার, তরতাজা সব্জির মতো হৃদয়ে উঠবে তরঙ্গ
পাথুরে পাহাড় ডিঙ্গিয়ে হয়ত পাবে কোন সাগরের সন্ধান
তারই ঢেউয়ে নাচবে হৃদয় , বাজবে আনন্দের নির্মল বাঁশি
সমর্পণ নয় পাথরের কাছে, যদি থাকে সাগর সঙ্গমের প্রতিশ্রুতি ।
দুঃখের মেঘগুলোকে দিও না গো আর স্বপ্নকে আড়াল করতে
কৈশোরের সেই স্বপ্নই হোক সত্য, লড়বে জানি হয় যদি লড়তে।
Copyright@ Anis Ahmed
January 10 2019 , Maryland