অন্তরের উঠোনে অভিধান কখনও ফেলেনি ছায়া
তাই সে রকম সংজ্ঞায় অনুদিত হয় না শব্দগুলো,
নইলে, সে দিন সেই অপরাহ্নে
অরিন্দমের প্রতীক্ষা কী কেবলই ছিল অপেক্ষা
যে অরণির উপেক্ষার এক ঝড়ো বাতাস
চুরমার করে দিল পলে পলে প্রত্যাশার প্রাসাদ।
নাহ, অপেক্ষায় ছিল না অরিন্দম আদৌ
এ তো অন্ন বস্ত্র খাদ্যের জন্য বিশাল কোন লাইন নয়
নয় কোন পাসপোর্ট -ভিসার জন্য দাঁড়িয়ে থাকা
কিংবা মধ্যপ্রাচ্যে শ্রমজীবি হবার দীর্ঘ লাইনেও ছিল না সে
এ সবই তো অপেক্ষা, একেবারে বস্তুগত প্রাপ্তির জন্য ক্লান্তিকর রীতিমত
কিন্তু অরিন্দম তো ছিল বিস্ময়কর এক প্রতীক্ষায় ।
প্রতীক্ষা বড়ই স্বপ্নিল এক সত্য, বিমূর্ত এক অনুভূতি
সেখানে সেই পিতামহের আমলের দেয়াল ঘড়ির মতোই
অরিন্দমের হৃদয়ে বাজে প্রেমের পেন্ডুলাম, নিঃশব্দ চরণধ্বণি
অরণি আসবে বলে অরুণোদয় থেকেই প্রস্তুত ছিল ধরণী
কখনও হৃদয় ভিজেছে অকাল বৃষ্টিতে, কখনও শারদ আলো
এই দুই সত্য নিয়েই অরিন্দমের প্রতীক্ষা অনবরত।
প্রেমের সেই পুরোনো পেন্ডুলামটি হৃদয়ে যখন বাজলো দ্রুত লয়ে
তখনই অরণি বলে এ প্রতীক্ষা অনর্থক,
অতএব, অরিন্দম আনত আকস্মিক পরাজয়ে।
২৮শে অক্টোবর ২০১৮, ম্যারিল্যান্ড
Copyright@Anis Ahmed