সময়ের হিসেবটা ঠিক বুঝিনা আজকাল
যতই এগোই সামনের দিকে
ততই যেন পিছিয়ে যাই বৈদ্যূতিন বিদ্যায়।
অথচ কী জানেন শৈশবে ছিল
বড় হবার বড়ই বাসনা, যখন ওড়াবো ঘুড়ি
রোদেলা আকাশে, পড়বে সে ঘুড়ি কারও অভয়ারণ্যে
সযত্নে বুকে রাখবে ধরে আকাশ ছোঁয়া রঙিন সে প্রত্যাশা।
অতঃপর শনৈঃ শনৈঃ বাড়বে ক্রমশই অকৃত্রিম এক ভালোবাসা।
জুয়েলি জাদুর মতো চোখের পলকেই
যেন পেরিয়ে এলাম সেই প্রত্যাশিত এক তারুণ্য
যখন বলিষ্ঠ কন্ঠে বিতর্কে মাতিয়েছিলাম মিনি পর্দা
যখন তরুণীদের কাছে ছিল কাঙ্খিত এক অস্তিত্ব আমার
প্রেমের জলতরঙ্গ বাজাতো পদ্মার পরিচিত ঢেউ
কিংবা মোটা কাঁচের চশমায় আবদ্ধ ছিল বুদ্ধি এবং বোধিও
দ্রুতই ফাস্ট ফরওয়ার্ড হলো ফুলেল হাসিতে ভরা সেই বসন্ত
সময়কে অন্তহীন ভেবে ভবে হই সাড়া, জানি কিছুই নয় অনন্ত।
দ্রুতগামি ট্রেনে চড়ে কোথায় যাত্রা জানিনে
আজন্ম কেটে গেল কেবল এই প্রকোষ্ঠের জানালায় রেখে মাথা
সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত অথবা সুর্যাস্ত থেকে সূর্যোদয়, সাদা -কালোয় মাখা
সময়ের লাইনে চলে এই রেলগাড়ি আমার ।
কখনও কখনও অঝোর ধারায় নেমে আসে বৃষ্টি, মেঘ কেটে সূর্য নামে কখনও।
একেই বুঝি বলে জীবন যাত্রা , স্বয়ংক্রিয় এবং দূর নিয়ন্ত্রিত এক যন্ত্রযানে ।
রিমোট কন্ট্রোলটা হাতে যাঁর তিনি খেলে যান খেলারামের এ খেলা
যাত্রী মন আমার নীরবেই দেখে অবেলায় বুঝি কেটে গেল বেলা।
অপার রহস্যে ঢাকা আছে জানি , এই অন্তহীন যাত্রা
জানিনে কোথায় থামবে এ ট্রেন , শুরু হবে এক নতুন মাত্রা।
৩রা অক্টোবর ২০১৮ , ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed