আমারতো কবি হবার কথা ছিল না
বাংলায় উষ্ণ উপমায় ভরানোর কথা ছিল না কবিতার খাতা
কথা ছিল না দুঃখিনী বর্ণমালাদের সুখি করে তোলার
ছিল না কথা বাংলার নকসী কাঁথায় শব্দের কারুকাজ
করে যাওয়ার,কথাতো ছিল না ইথারে শব্দের পাখি ওড়ানোর
কথাতো ছিলনা, রবীন্দ্র-নজরুলের নেশায় বুঁদ হয়ে থাকার ।
কথা ছিল
হ্যাঁ কথা ছিল উল্টোটাই বরঞ্চ, উর্দুতে পারদর্শী হওয়ার
সূর্য নয় , চাঁদ তারার চিত্রে সাঈদির মতো নিজেকে খোঁজার
টেনে-টুনে ম্যাট্রিক পাশ করে প্রবঞ্চনার হাসি হাসার
কিংবা কেরাণীর চাকরিতে তুষ্ট হয়ে পর-জাতির পদলেহন
এ সবইতো কথা ছিল , গোলামির জিঞ্জিরকে সোনার শেকল
ভেবে রুষ্ট লোকেদের তুষ্ট করার ব্যর্থ ও বিকৃত চেষ্টা ।
কিন্তু না
পিতা, কেবল তোমার জন্যই আজ আমি লিখি কবিতা অহরহ
তোমার জন্যই প্রাণে আমার পতাকা ওড়ে দিবানিশি
সেই যে তুমি একদা অংক কষে দেখালে মুক্তি ও স্বাধীনতার সমীকরণ
সেই থেকে আমি শিখে গেলাম দাসত্বের আবর্ত ভাঙার কৌশল
নিজে বন্দী হয়েও তুমি মুক্তির স্বপ্ন দেখালে অবশিষ্ট জাতিকে
জাতি হয়ে উঠলো এক অভিন্ন জাতিরাষ্ট্র তোমারই তর্জনীর গর্জনে।
ভূলুন্ঠিত বর্ণমালাকে তুমি যে করলে বর্ণিল পিতা
সেই থেকে অক্ষরে অক্ষরে খুঁজে পাই স্বাক্ষর তোমার
কাব্যে ও ক্রিকেটে এবং মহাকাশ অবধি বাঙালির এ যাত্রা
সে তো দূর-আস্ত দিল্লির মতোই থেকে যেতো স্বপ্নের মিঠাই হয়ে
কিন্তু পিতা তুমিতো জানান দিলে আমার স্বকীয় সত্বার কথা
নইলে আমার এই আমি প্রান্তিক অবস্থানেই থেকে যেতাম আমরণ।
পিতা , বিশ্বাস করো , আমার কবিতার পেছনে বরাবর উহ্য থাকো তুমি
সিঁড়িতে পড়ে থাকে দেহ কেবল তোমার, আত্মায় নিমগ্ন থাকে জন্মভূমি ।
১৫ই আগস্ট ২০১৮, ম্যারিল্যান্ড।
Copyright @ Anis Ahmed