ঠিক কবিতার মতোই
একদা ছিলে আমার জীবনে ছন্দে আনন্দে
পুরোনো ও নতুন ঢাকার মাঝখানে এক
অনন্য অনুভূতির সেতুবন্ধ ছিলে তুমি
জোনাকি সিনেমার বিপরীতে ভিন্ন এক জোনাকির খোঁজে
বিকেল গড়ানো সন্ধ্যে যখন আসতো নেমে
বৈঠকখানার উষ্ণ চায়ের আড্ডায় কখনও আমি নায়ক
কখনওবা খল নায়ক কেবল, তবু আলাপনে তুখোড় উভয়ই
রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্র কিচ্ছু যেত না বাদ
রবীন্দ্রনাথ থেকে পাবলোরা , পিকাসো ও নেরুদা উভয়ই আসতেন নেমে।
তার পর সন্ধ্যা আরো ঘন হলে,
ঘন ঘন শব্দ কেবলই নিঃশ্বাসের
নিরবচ্ছিন্ন এক নিরন্তর নীরবতায় কেটে যেত মুহুর্তগুলো
অল্পই ছিল বিশ্বাসের, অধিকাংশই ছিল অনন্ত অবিশ্বাসের
অথবা অন্তত সংশয়ের মেঘে ঢাকা
তাই ভালবাসার কথাগুলো সেখানে প্রান্তিক উচ্চারণেই উহ্য রয়ে গেল ।
মেঘে ঢাকা চাঁদের মতোই লুকোলে তোমার অনুভূতিদের
আঁচলে বাঁধলে স্বর্ণ মুদ্রার মতো ভিন্ন কারও ভালবাসার বিনিময় মূল্য হিসেবে।
আমিও অন্তর্মুখি মন নিয়ে, আবার নেমে এলাম কাঙাল হৃদয়ে অন্যত্র
ভালোবাসার বাসা নির্মাণে এবার আমি এক কুশলী রাজমিস্ত্রির তকমা পেলাম ।
ওই যে এক কোমল কৈশোরে তোমার
লিখেছিলে ঠিক কবিতার মতোই ব্যঙ্গ রসে টুইটুম্বুর এক চিঠি,
যার অন্তরালের অনুভূতিদের চিনতে পারিনি আমি
বন্য বালকের মতোই অহঙ্কারি উষ্মায় বুঝিনি উন্মুখ সে মনের বাহ্য বচন
অগত্যা তুমি ফেরালে মুখ, সম্ভবত মন ও তোমার নিজের দিকেই
চাতক চিত্তে চেযে দেখি , চতুর্দিকে কেবল চড়ুই ভাতির আয়োজন
কোলাহলের সেই ভিড় থেকে ততদিনে তুমি গেছ বহুদূর সরে
সে যে তোমার অভিমান কেবল , সে কথা বোঝেনি এ অবুঝ মন
যখন বুঝলো ততদিনে তুমি অন্যত্র কোথা ভিন্ন বিশ্বের বিচরণ
আমার হ্রস্ব হাত প্রশস্ত করি যতই তুমি ধেকে যাও স্পর্শের বাইরে।
হঠাৎ সেদিন সময়ের ধুলি মুছে ,সামনে এলো তোমারই কবিতার বই
বেদনা বিবর্তনের সেই শব্দগুচ্ছ শুধু , ধূ ধু মনে খুঁজি হায় তুমি কই ।
৩০ শে জুলাই ২০১৮, লুরে ক্যাভার্ণ ভার্জিনিয়া
Copyright @ Anis Ahmed