[ হৃদয়বীণার ক্ষুধার্ত শিশুদের খাদ্য সরবরাহ উদ্যোগের প্রতি নিবেদিত]
মরুময় এ মর্ত্যে মরীচিকা দেখি সর্বত্রই
মরুদ্যানের সন্ধানে হেঁটেছি দীর্ঘ এ পথ
মানুষময় এ বিশ্বে মনুষত্ব খুঁজি প্রত্যহই
পাই কখনও কিঞ্চিৎ কদাচিত, কখনো হই ব্যর্থ মনোরথ।
জনসংখ্যার আধিক্যে ভরে ওঠে আজকাল
মানবতাহীন এই বিশাল জনারণ্য
খসে পড়া মুখোশে দেখি , মানুষ কোথায় এখন
চারিদিকে কেবল প্রাণী কতক বন্য ।
আমি তো সর্বদা সন্ধানে থাকি সেই মানুষের
বৃক্ষের মতো যে অন্যের জন্য হয় ফলবতী
আমি তো সর্বদা সন্ধানে থাকি সেই মানুষের
প্রত্যহই যে জ্বালায় ভালোবাসার জ্যোতি ।
আমি তো প্রত্যহই প্রতীক্ষায় থাকি সেই মানুষের
বাগানে যার নিত্যই ফোটে, প্রেমের সুবাসিত ফুল
আমি তো প্রত্যহই প্রতীক্ষায় থাকি সেই মানুষের
হৃদয়ে যার দয়ার সাগর, মানেনা এ-কুলও-কুল।
অথচ প্রাণীদের প্রাণেও তো থাকে অগাধ অন্তহীন প্রেম
তাদের শিশুরাও লালিত ঈর্ষনীয় স্নেহের ছায়ায়
হিংস্রতার নখ তখন দ্রুত হারায় কোমল পশমের আড়ালে
পশুরাও প্রকাশিত এক ভালোবাসার কায়ায় ।
তবে কেন শিশুদের চাঁদ মামা থেকে যায় ঝলসানো রুটি হয়ে
আমাদের কোলেই ঝোল টানি কেন বার বার
নিয়ত নিমন্ত্রণে খাদ্যদের কেন পাঠাই , আবর্জনার ঝুলিতে
তৃপ্তির ঢেকুরে তাই থেকে যায় অস্বস্তি আমার ।
মাঝে মাঝে মনে হয় এ কোন শুষ্ক ভূমিতে বাস করি আমি
কাঁটারাই যেখানে আচ্ছন্ন করে পুষ্পগুচ্ছ
নির্দয় হৃদয় নিয়ে গৌরবে বাড়ে নির্বুদ্ধিতা কেবল শনৈঃ শনৈঃ
কাক হয়ে পরে থাকি শুধু মিছেই ময়ুর পুচ্ছ।
প্রতীক্ষায় থাকি সেই রহস্যময়ী আষাঢ়স্য বৃষ্টির জন্য দিবারাত্রি
শুষ্ক এই মনোভূমি হোক না আজ খানিক সিক্ত
পূজায় প্রার্থনায় চাই সেই অঝোর ধারায় শ্রাবণ দিনের বর্ষণ
ভ’রে উঠুক হৃদয় আমার যে ছিল বেদনায় রিক্ত।
সুর ও সঙ্গীতের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে , মিলে যাই সকলেই সকলের সঙ্গে
হৃদয়বীণায় বাজুক না হয়, প্রেমের মাদল, মিলনের সুর উঠুক আজ এই মৃদঙ্গে।
তবে না . চাইবো না আর কিছু
হাঁটবো না কখনও পিছু পিছু
যদি সবাই থেকে যায় নিদ্রার নেশায় বুঁদ হয়ে আলোকিত এ প্রভাতে
একাই দেবো এ সমুদ্র পাড়ি
তোমরা না হয় নিলেই আড়ি
আমার আনন্দ, আমার সুখ ,আমারই জ্বালানো এ আলোর আভাতে।
২৫শে জুলাই ২০১৮, ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed