পাড়ার সেই পুরোনো দর্জি, মালেক মিয়া
যিনি ক্রিকেটের মাঠে মাপা লেংথের বলের মতোই
কেটে চলেন দৈর্ঘে প্রস্থে নানান রঙের পোশাক অবিরত
ফরমায়েশি ফর্মেই থাকেন, ফ্যাশন কালোত্তীর্ণ করে।
তাঁরই কাছে সেদিন হন্ত-দন্ত হয়ে এলো রমজান মিয়া
এমনিতে শশব্যস্ত এই রমজানের দেখা পাই না সহজে
কিন্তু বছরের এই মৌসুমে নিশ্চিত গ্রাহকের মতোই
চুপি চুপি পায়ে রমজান চলে আসে মালেক খলিফার কাঁধের কাছে।
বড় অদ্ভূত এক বায়না ধরলো দর্জি মালেকের কাছে
সংযমের দৈর্ঘ্যটা মেপে দেওয়ার এক অবিচল বায়না
মালেক বলে সংযমের দৈর্ঘ্য ? সেতো সহজে যায় না মাপা
জন্ম থেকে জন্মান্তরে বিস্তার তার এতটাই অন্তহীন
যে নিরন্তর তাকে ধরার প্রচেষ্টা সম্ভব নয় মালেক মিয়ার পক্ষে।
রমজান বলে, তবে যে হুজুরেরা বলেন অহরহ সংযমের দৈর্ঘ্যের কথা
বলেন সেহরি থেকে ইফতার অবধি , সংযমের বিস্তার বোধ করি।
মালেক মিয়া মুচকি হেসে বলেন, সংযমতো সীমিত নয় ঐ টুকু সময়ের মধ্যে।
সেহরি থেকে ইফতার- সেতো কেবল প্রতীকি সংযম
সাংবাৎসরিক আয়োজনে পরিপূর্ণ । সূর্যাস্তের পরতো শুনেছি
এমন কী আরব দেশেও ভোগের ভাগ নিয়ে চলে কাড়াকাড়ি
কিছুটা সময় থাকে মুখে কুলুপ আঁটা , বাকি সময়টা কুটকাচালি ।
বিশ্বময় ছড়িয়ে আছে জানি লালসার অসংখ্য কেউটে সাপ
সে জন্যই সংযমকে বাড়তে হবে দৈর্ঘে-প্রস্থে আরো অনেকখানি
পঞ্জিকার পাতার বিশেষ মূহুর্তগুলোর সংযম সাধনা, সেতো প্রতীক শুধু
এই বৃত্তাবদ্ধ সংযম থেকে বেরিয়ে জীবনের আঙিনায় সংযম হবে গ্রথিত।
মালেক মিয়ার এমন দার্শনিক অভিভাষণে রমজান এখন পুরোদমে অভিভূত
কখনও ভাবেনি , সংযম ছাড়িয়ে যাবে তার নিজস্ব নামের গন্ডিকেও দ্রুত ।
১৭ই মে ২০১৮. ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed