শতাব্দি পেরুলো সেতো কবেই
তুমিতো শতায়ু পেরিয়ে বেঁচে থাকো
সুরে ও শব্দে, জ্বল জ্বল করো নক্ষত্রের মতো
দিক নির্দেশনা দিতে চাও, চিরচেনা তারার মতোই ।
হে নতুন দেখা দিক আরবার , বলে সেই চিরপুরাতন তুমি
চলে আসো আমার সদ্য কেনা হারমোনিয়ামের রীডে
বাসা বাঁধো বাবুই পাখির মতোই আমার বুকশেলফে
এবং অধূনা তোমাকে খুঁজে পাই,অন্তর্জালিক জগতেও।
তবু কেন যেন মনে হয়, তুমি থেকেও নেই কাছে
কেতাদূরস্ত ড্রইং রুমের দেয়ালে যতটা আলোকিত
ততোধিক আঁধারে হারাও তুমি হৃদয়ে মানুষের
মিলন প্রত্যাশী তোমার ও-মন পাইনে খুঁজে সহসা
বিভেদে বিভ্রান্তিতে হারাই অসংখ্য বার ।
আলোকিত তোমার সূর্য সত্তা, গ্রহনে নিগৃহীত আজ
অনুষ্ঠানের ব্যানারে ফেস্টুনে যত দেখি ছবি তোমার
সেই অনুপাতে অনুপস্থিত থেকে যাও মানুষের মনে।
শান্তিনিকেতনের বাইরের বিশ্বটা বড্ড অশান্ত ইদানিং
নাটোরের কোন বনলতা সেন ও নেই উত্তরাধিকারে
যে দু দন্ডের শান্তিতে ভোলাবে ব্যাকুল কোন মন
বিশ্ব -কবি হয়েও তুমি, আমায় করলে নিতান্তই নিঃস্ব
মিলনের শব্দগুলো সব যেন ভেঙ্গে পড়ে পলেস্তরার মতোই
স্বগতোক্তি করে যাই যতই না জোরে, প্রতিধ্বনি পাইনা খুঁজে কোথাও
জানি কলিকালের এই কালিমাখা কালিমায়, তোমার শব্দরাজি
ধরবে বাজি, বাজিয়ে বাঁশি জাগাবে আবার সেই অন্তরাত্মা ।
সন্ধান যার দিয়েছো বার বার কী পূজায়, কী প্রেমে
নেমে এসো তুমি আজ, আর থেকো না বাঁধা শুধুই ফ্রেমে ।
• রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্ম-জয়ন্তীতে রবি-কবির প্রতি শ্রদ্ধাঞ্জলী
৬ই মে ২০১৮. ম্যারিল্যান্ড
Copyright @ Anis Ahmed