কবি পরিচিতি

Anis_Speech

কবি আনিস আহমেদের জন্ম ১৯৫৬ সালের ৬ই মার্চ ঢাকার ধানমন্ডি এলাকায় । তাঁর পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার বিবির বাজার সংলগ্ন  শাহপুর-সাওয়ালপুর গ্রামে।

আনিস আহমেদের শিক্ষাজীবনের শুরু ঢাকার ভিকারুন্নেসা স্কুলে। বলাই বাহুল ষাটের দশকের গোড়ার দিকে  ভিকারুন্নেসা স্কুলে ছোট ক্লাসে ছেলেরা পড়াশোনা করতো। পরে তিনি আজিমপুরের লিটল অ্যাঞ্জেলস স্কুল এবং তার ও পর চতুর্থ  শ্রেণী থেকে তিনি তদানীন্তন পাকিস্তান বিমানবাহিনী পরিচালিত শাহীন স্কুলের ছাত্র ছিলেন ।

আনিস আহমেদ ছোট বেলা থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছাত্র ছিলেন । সেই ধারা বজায় রেখে তিনি আগা গোড়া ভালো ফলাফল করেছেন কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয়েও।  তিনি ইংরেজি সাহিত্য ও ভাষা বিষয়ে ঢাকায় এবং  ব্রিটেনের বার্মিংহ্যামে স্নাতক ও  স্নাকোত্তর পর্যায়ে পড়া শোনা করেছেন। ঢাকার নটরডেম কলেজে শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবনের সূচনা। পরে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করেছেন ১৯৮২ থেকে ১৯৯৪ সাল পর্যন্ত।পরবর্তীতে রবীন্দ্রনাথের প্রখ্যাত অনুবাদক ড উইলয়িম রাদিচের সংগে  লন্ডনে সোয়াস ‘এ , শিক্ষকতা করেছেন ।

ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার বাইরেও তিনি আবৃত্তিতে , উপস্থিত বক্তৃতায় ও বিতর্কে তাঁর চৌকষ মেধার প্রমাণ রেখেছেন।

প্রথম রেডিও অনুষ্ঠান করেন ১৯৬৪ সালে চতুর্থ শ্রেণীতে পড়ার সময়ে ঢাকায় ছোটদের অনুষ্ঠান খেলাঘরে।১৯৬৭ সালে তিনি টেলিভিশিনে ছোটদের নাটকে অংশ নেন। এর পর বেতার ও টেলিভিশিনে তিনি অসংখ্য অনুষ্ঠান করেছেন। সেই সময়কার জনপ্রিয় একটি রেডিও ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান উত্তরণ গ্রন্থনা করেছেন  এক নাগাড়ে ছয় বছর।

১৯৬৯-৭০ সালে , তিনি কিশোর বয়সে বাঙালি জাতয়ীতাবোধে অনুপ্রাণিত বোধ করেন । সেই সময় তিনি তাঁর ডায়রিতে Bengal Speaks বলে একটি লেখা লিখেছিলেন , কিন্তু একাত্তরে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞ শুরু হলে মা’য়ের আদেশে লেখাটি অশ্রুসজল চোখে পুড়িয়ে দিতে বাধ্য হন।  বাংলাদেশ স্বাধীন না হওয়া পর্যন্ত , এস এস সি পরীক্ষা দেবেন না বলে প্রতিজ্ঞ আনিস আহমেদ , তৎকালিন পাকিস্তান বিমান বাহিনীর স্কুল , শাহীন স্কুলে গিয়ে প্রচারপত্র বিলি করেছিলেন । পকেটে প্রচারপত্র নিয়ে যাওয়ার সময়ে তিনি পাকিস্তান সেনাদের প্রশ্নের সম্মুখীন হন। ভালো ঊর্দু জানার কারণে কিশোর আনিস তখন প্রাণে রক্ষা পান।

প্রবাসে বাস করে যে কয়েকজন বাংলা সাহিত্য চর্চা করে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে অন্যতম একজন জনাব আনিস আহমেদ। তাঁর প্রতিটি কবিতায় আছে আবেগ, আছে ভালবাসা ও বাস্তবতার এক বিস্ময়কর সংশেলষণ। কবিতার এই স্বচ্ছ নীল সমুদ্রপানে তাকালে চোখের সামনে ভেসে উঠে আমাদের সমাজ -বাংলার এক চির-চেনা গন্ধ। কবির সমসাময়িক কিছু কবিতায় লুকিয়ে আছে বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া অমানবিক চিত্রের বিরুদ্ধে সোচ্চার প্রতিবাদী কন্ঠস্বর। কবিতা পথে শুধু মুগ্ধ করেনি, হৃদয় ভেদ করে একটি শুদ্ধ চেনতনার জন্ম দেয় অবচেতন মনে। কবি আমাদের দিয়ে যাচ্ছেন অসংখ্য  কবিতা।

১৯৯৪ সালে বেতার সাংবাদিক হিসেবে যোগ দেন বিবিসি লন্ডনে এবং ২০০১ সাল থেকে একই পদে কর্মরত রয়েছেন ভয়েস অফ আমেরিকা ওয়াশিংটনে ।২০০১ সালে ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগে আন্তর্জাতিক বেতার সম্প্রচারক হিসেবে যোগদানের পর আনিস আহমেদ অসংখ্য এমন সব অনুষ্ঠান গ্রন্থনা ও উপস্থাপন করেছেন যা শ্রোতা-নন্দিত হয়েছে । তাঁর গবেষণা , গ্রন্থনা ও উপস্থাপনায় পরিবেশিত উল্লেখযোগ্য ধারাবাহিক অনুষ্ঠানগুলো হচ্ছে , ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে , বাহান্ন এখন পঞ্চাশে । অন্যান্য অনুষ্ঠান: বাংলাদেশের গণতন্ত্র: সংকট ও সমাধান, বাংলাগানের বিবর্তন, আমেরিকান ও ব্রিটিশ কবিদের কবিতা নিয়ে কথা ও আবৃত্তি । এ সব অনুষ্ঠান তাঁকে প্রশংসনীয় স্বীকৃতিতে পুরস্কৃত করেছে।

ভয়েস অফ আমেরিকা এবং ব্রডকাস্টিং বোর্ড অফ গভর্ণরস ‘এর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য অর্জনে তাঁর সাফল্যের স্বীকৃতি স্বরূপ আনিস আহমেদ ২০১০ সালে স্বর্ণপদক লাভ করেন।

ভয়েস অফ আমেরিকার বাংলা বিভাগের ওয়েব পেইজের অন্যতম উদ্যোক্তা আনিস আহমেদ এই প্রতিষ্ঠানে যোগ দেওয়ার আগে বিবিসি লন্ডনে সাতবছর প্রযোজক পদে কাজ করেছেন।

ইংরেজি ভাষা ও সাহিত্যের ছাত্র আনিস আহমেদ স্বদেশে ও বিদেশে স্বনামে ও বেনামে অসংখ্য নিবন্ধ লিখেছেন। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী আনিস আহমেদ ২০১৩ সালে ঢাকায় গণজাগরণ মঞ্চের উদ্দীপনায় কবিতা লেখা শুরু করেন। এর আগে অবশ্য ছাত্র বয়সে তিনি কিছু কবিতা লিখেছিলেন , কিন্তু সেগুলো ছিল কাঁচা কৈশোরিক অনুভূতির প্রকাশ। গণজাগরণ মঞ্চই তাঁকে ভীষণ ভাবে উদ্বেলিত করে কবিতার দিকে। তারপর থেকে তিনি এক নাগাড়ে লিখে চলেছেন।

 

এরই মধ্যে প্রকাশিত হয়েছে  আনিস আহমেদের তিনটি  কবিতার বই ,  ইলিশিয়ামের প্রতীক্ষায় ; শব্দ ও নৈঃশব্দের সুর  এবং আলোকিত পালকের জলবিন্দু