কবিতাকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে একটি বিমূর্ত শিল্প বলে মনে করি। অন্যান্য বিমূর্ত শিল্পের মতো কবিতার ও সহজ ব্যাখ্যা সম্ভব নয়। পাঠকই নিজের অনুভূতি অনুযায়ী কবিতাকে বেছে নেবেন নান্দনিক আনন্দের উপাদান এবং সম্ভবত উৎস হিসেবেও। কবি নিশ্চয়ই প্রতিটি কবিতা কোন বিশেষ অনুভূতি নিয়ে লেখেন, কিন্তু সেটি কবির একান্ত নিজস্ব অনুভূতি। সেই অনুভূতির অংশীদার অবশ্য পাঠক হতেই পারেন কিন্তু সেই অনুভূতিকে অতিক্রম করে ভিন্ন মাত্রায়ও কবিতাকে , এর উপমা, উৎপ্রেক্ষা এবং সামগ্রিক রূপকল্পকে পাঠক দেখতে পারেন। কবিতার সর্বজনীনতার উৎস এখানেই। আসলে যেমনটি আমি এই বইয়ের প্রস্তাবনায়ও লিখেছি , “কবিতার চুলচেরা বিশ্লেষণ সাহিত্যের ক্লাসের কাজ। এক কালে কলেজে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ানোর সময়ে সেই কাজটি করেছি বিশ্লেষকের দৃষ্টি দিয়ে কিন্তু সৃজনকর্ম তা যতোই ক্ষুদ্র হোক না কেন তাকে নিয়ে কাটা-ছেঁড়া করা বোধ হয় কোন কবির পক্ষেই সম্ভব নয় , শোভনীয়ও নয়”। তবে শুধু এ কথা বলতে পারি যে এই বইয়ের কবিতাগুলোতে প্রেম প্রাধান্য পেয়েছে সব চেয়ে বেশি। কেবল মানব মানবীর রোমান্টিক প্রেম নয় , দেশপ্রেম এবং কোন এক অলৌকিক সত্যের প্রতি ও প্রগাঢ় প্রেম । সেই সঙ্গে রয়েছে কিছু বেদনার কথাও। কেবল প্রচলিত অর্থে বিরহ বেদনা নয়, বর্তমানের ঝঞ্ঝা বিক্ষুদ্ধ বিশ্বের বেদনা যেখানে মানবিক মূল্যবোধ বিলুপ্ত হয়, দানবীয় দম্ভে।